সেই মুক্তিযোদ্ধার ছেলেকে মেডিকেলে চাকরির প্রস্তাব হুইপের

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৪২ পিএম

রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রত্যাখ্যান করা দিনাজপুরের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মো. ইসমাইল হোসেনের ছেলে নুর ইসলামকে চাকরিচ্যুতি ও বাস্তুচ্যুতির অভিযোগে সদরের সহকারী ভূমি কমিশনার (এসি-ল্যান্ড) আরিফুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধার ছেলে নুর ইসলামকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন একটি গাড়ির চালক হিসেবে চাকরির প্রস্তাব দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও স্থানীয় এমপি ইকবালুর রহিম। পাশাপাশি যে সরকারি বাড়িতে নুর ইসলাম পরিবার নিয়ে ছিলেন সেখানেই থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।  

সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের যোগীবাড়ি গ্রামে সোমবার সকাল ১০টায় মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের কবর জিয়ারত ও পরিবারের স্বজনদের সাথে দেখা করেন হুইপ।

হুইপ ইকবালুর রহিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি নিজেও একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। একজন মুক্তিযোদ্ধা তার শেষ সম্মানটুকু না নিয়েই জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বিষয়টি নিয়ে খুবই মর্মাহত! মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইলের ছেলে নুর ইসলামকে চাকরিচ্যুত ও বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে সেজন্য আমরা তাকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া একটি জিপ গাড়ির চালক হিসেবে চাকরির প্রস্তাব করছি।’

এছাড়া যেই সরকারি বাড়িতে নুর ইসলাম পরিবার নিয়ে ছিলেন সেই বাড়িতেই তারা থাকবেন বলেও তিনি জানান।

চাকরির সকল দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নুর ইসলাম আগামী ১ নভেম্বর থেকেই দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন গাড়ির চালক হিসেবে যোগদান করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন হুইপ।

মুক্তিযোদ্ধার আক্ষেপ নিয়ে চিঠি লিখে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হুইপ ইকবালুর রহিম বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুর পূর্বে যে চিঠি লিখে গেছেন সেখানে যাদের দোষারোপ করা হচ্ছে তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে যারা দোষী প্রমাণিত হবেন তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ সময় প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের কবর জিয়ারত ও পরিবারের স্বজনদের সাথে দেখা করতে আসেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কে. এম তারিকুল ইসলাম। এরপর তিনি মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী এম নেহার হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী এম নেহার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার স্বামী রাষ্ট্রীয় সম্মাননা না নিয়েই চলে গেছেন। আমিও অসুস্থ মানুষ। হুইপ সাহেব আমার ছেলেকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাড়িচালক হিসেবে চাকরিতে যোগদান করার বিষয়ে বলেছেন। এখন আমার স্বামীর আত্মা হয়তো একটু শান্তি পাবে।’

চাকরি ফিরে পাওয়ার বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের ছেলে নুর ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হুইপ সাহেবের প্রস্তাব আমি গ্রহণ করেছি। তিনি আমাকে সব কাগজপত্র নিয়মানুযায়ী আগামীকাল (মঙ্গলবার) নিয়ে যেতে বলেছেন। আগামী ১ নভেম্বর থেকে আমাকে চাকরিতে যোগদান করার কথাও বলেছেন তিনি।’

নুর ইসলাম বলেন, ‘আমি ন্যায্য বিচার পেয়েছি। সহকারী ভূমি কমিশনারকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার স্যারও এসেছিলেন। তারা সবাই বলেছেন, এই ঘটনার সাথে আরো যদি কেউ জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত