ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে পটুয়াখালীতে তিনজন নিহত ও ১২ আহতের খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেড় হাজার ঘরবাড়ি, ২৫ হাজার হেক্টর জমির আমনসহ শীতকালীন সবজি, দুই কি.মি. বেড়িবাঁধ।
স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দু থেকে তিন ফুট উচ্চতার জোয়ারে পটুয়াখালী শহরসহ জেলার অন্তত চল্লিশটি গ্রাম ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
এছাড়া পূর্বর বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে ১৯টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার মির্জাগঞ্জের উত্তর রামপুরা গ্রামে ঘরের উপর গাছ চাপা পড়ে হামেদ ফকির (৬৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। কালাপাড়ার পূর্ব ধানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে সুফিয়া বেগম (৬৫) নামে একজন নিহত হয়েছে।
এর আগে ঘূর্ণিঝড়ের সংবাদে গভীর সমুদ্র থেকে তীরে ফেরার পথে শুক্রবার প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলার থেকে পড়ে বেলাল (৪০) নামের এক জেলে নিহত হয়। শনিবার দুপুরে কুয়াকাটা ঝাউবাগান এলাকায় সি বিচ থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলার কলাপাড়া, গলাচিপা, রাঙ্গাবালীত প্রায় দেড় হাজার ঝুঁকিপূর্ণ কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে কয়েক হাজার গাছপালা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কলাপাড়া, গলাচিপা, রাঙ্গাবালীতে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর আমনের ক্ষেতসহ শীতকালীন সবজির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গলাচিপায় ৬ হাজার ৬৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমনের উৎপাদন হয়েছে। এতে প্রায় ৩১ কোটি ১২ লাখ ৭৩ হাজার টাকার কৃষির ক্ষতি হয়েছে।
কলাপাড়ায় ৫ হাজার ১২০ হেক্টর জমির আমন ও সবজির ক্ষতি হয়েছে। রাঙ্গাবালীতে প্রায় সাড়ে তেত্রিশ কোটি টাকার আমনসহ ডাল ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার আ. মান্নান জানান, এসব ফসলি জমির পানি দ্রুত নামালো হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব কৃষকদের রবি মৌসুমে উচ্চ প্রণোদনাসহ কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হলে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মো. অলিউজ্জামান জানান, কলাপাড়ার ডাবলুগঞ্জের রসুলপূরের দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অপরদিকে পূবের ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে কলাপাড়া লালুয়ায় ১৫টি এবং রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়ায় চারটি গ্রামের বসতভিটাসহ কয়েক'শ একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এদিক জেলার বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া বাড়ি ফেরা মানুষের রয়েছে নানা অভিযোগ।
কলাপাড়া পৌর শহরের সরকারি খেপুপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া সুমা (২৬), সবুরজান (৪৫), জান্নাতী (২৫), রিজিয়া বেগম (৩৮) এবং লালুয়ার নুর জাহান (৬৫) জানান, রাতে তাদের সামান্য মুড়ির সঙ্গে বিস্কুট দেওয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুব সামান্য। এছাড়া সারারাতে তাদের কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি।
কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার তপন কুমার ঘোষ বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। হয়তো দেরি করে যারা এসেছে তারা খাবার পাইনি।
