জন্মদিনে হুমায়ূন আহমেদ স্মরণ

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ১২:২৫ এএম

নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা প্রয়াত  হুমায়ূন আহমেদের আজ জন্মদিন। সাত বছর আগে পৃথিবী ছেড়ে শারীরিকভাবে বিদায় নিলেও তিনি রয়ে গেছেন তার অগণিত ভক্তের মাঝে। জন্মদিনে প্রিয় এই মানুষকে স্মরণ করেছেন তার কাছের মানুষেরা

মেহের আফরোজ শাওন

হূমায়ূন আহমেদ শুধু আমার স্বামী নন। অনেকের মতো তিনি আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব, প্রিয় লেখক। তার স্মৃতি নিয়েই তো বেঁচে আছি। আমি প্রতিদিন তাকে খুঁজে পাই তারই অিস্তত্ব নিশাদ আর নিনিতের মাঝে। তাই এক এক সময় মনে হয়, শুধু স্মৃতিতে নয়, আমাদের যাপিত জীবনের সঙ্গেই মিশে আছেন তিনি। আমি চাই শুধু জন্মদিন বা প্রয়াণের দিনে নয়,  হুমায়ূন আহমেদকে মানুষ সব সময় মনে রাখুক। আমি তার অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণ করতে চাই। সবাই পাশে থাকলে নিশ্চয়ই তা সম্ভব। এতেই তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন।

তারিক আনাম খান

আমার সমসাময়িক অনেককে নিয়ে অনেক কালজয়ী কাজ করেছেন  হুমায়ূন আহমেদ। বলা বাহুল্য নয় যে, অনেকে তার কাজের মাধ্যমেই আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। কিন্তু আমাকে নিয়ে তিনি কাজ করতেন না। তার সঙ্গে দেখা হলে মনে মনে ভাবতাম–তিনি কি আমার অভিনয় পছন্দ করেন না? তা না হলে আমাকে কোনো কাজে ডাকেন না কেন? অবশেষে তার পরিচালিত শেষ সিনেমা ‘ঘেটুপুত্র কমলা’র জন্য যখন ফোন এলো, আমি খুব বিস্মিত হই। পরে তার কাছ থেকে জানতে পারলাম, তিনি আমাকে দেওয়ার মতো উপযুক্ত চরিত্র পেতেন না। তিনি চাইতেন আমাকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে। আমাকে অনেক শিল্পীর মধ্যে যেনতেন চরিত্র দিতে চাননি। তাই তো ‘ঘেটুপুত্র কমলা’তে প্রধান চরিত্রেই নিয়েছিলেন। যে চরিত্রের একাধিক শেড ছিল।

মুনমুন আহমেদ

 হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে আমার শ^শুর আবু হেনা মোস্তফা কামালের খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। তাই আমরা পরিবারের মতো ছিলাম। তিনি আমার নাচ পছন্দ করতেন। কিন্তু অন্য সবার মতো তো আর তিনি নিজের ভালোলাগা প্রকাশ করতেন না। আমাদের বুঝে নিতে হতো। আমি তার দুটি সিনেমায় (আমার আছে জল ও ঘেটুপুত্র কমলা) অভিনয় করেছি। নাটকও করেছি। ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ করার সময় তিনি ঘেটু নাচের শু¨টিং করার জন্য অনেক বড় সেট তৈরি করেছিলেন। আমি মনে মনে চেয়েছিলাম ওই সেটে আমার কত্থক নাচের কিছু দৃশ্য ধারণ করতে। কিন্তু তাকে সরাসরি বলার সাহস ছিল না। আমার সঙ্গে এটা-ওটা বলতে বলতেই তিনি তা বুঝে ফেলেন এবং নিজেই বলেন, তুমি এই সেট ব্যবহার করতে পার। এমন একটা মানসিক বোঝাপড়া ছিল। আমি স্যারকে খুব মিস করি।

ফারুক আহমেদ

নব্বইয়ের দশকে বিটিভির ‘অচিন বৃত্ত’ নামে একটি নাটকে কাজ করতে গিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্কটা পোক্ত হয়। তারপর একসঙ্গে অনেক কাজ করেছি। চিকিৎসার মধ্যে অল্প কিছুদিনের জন্য আমেরিকা থেকে যখন ফিরে এসেছিলেন। শুনলাম পরদিন আবার চলে যাবেন নিউ ইয়র্কে। আগের রাতেই তার বাসায় গেলাম। আমাকে নিয়ে একটা ঘটনা শোনালেন সবাইকে, ‘ছোট ছেলের জন্মদিনে ভুলে ফারুককে আমি দাওয়াত দিইনি। না বলার পরও ফারুক চলে এসেছে। এসে বলে আপনি তো দাওয়াত দিলেন না। আমি দাওয়াত ছাড়াও চলে এসেছি। এটাই হলো প্রকৃত ভালোবাসা।’ বলতে বলতেই তার দু’চোখ ছলছল করে উঠছিল। সেবারই তার সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়। তিনি চলে যাওয়ার পরও আমি অনেক নাটকেই কাজ করছি। কিন্তু নাটকে তার উপস্থিতি ভীষণ মিস করছি।

মনিরা মিঠু

হুমায়ূন স্যার অনেকটা ১২ বছরের শিশুর মতো। তিনি জাদু দেখাতেন আমাদের। আমি একবার প্রশ্ন করলাম, স্যার মশা কামড়ালে ফুলে যায় কেন? তিনি বললেন আরেক দিন বলব। পরে তিনি অনেক বই ঘাঁটাঘাঁটি করে একদিন বোঝালেন। মনে হবে যেন মশার ওপর হাজার হাজার বই পড়েছেন! আর তিনি খুব সুন্দর ছবি আঁকতেন। আমাদেরও বলতেন ছবি আঁকা শিখতে চাইলে ওমুক বই পড়ে প্র্যাকটিস করো। আর তিনি অসহায় দরিদ্র মানুষদের সাহায্য করতেন। নুহাশ পল্লীর কেয়ারটেকার নুরুল হকের মেয়ের বিয়ের সময় তিনি কী এক কাজে ঢাকার বাইরে গিয়েছিলেন। পরে আমাকে কিছু টাকা দিয়ে বললেন, নুরুলের মেয়ের জন্য সুন্দর দেখে দুল কিনবা। দুল নিয়ে জুয়েলের সঙ্গে বিয়েতে যাবা। গিয়েছিলাম সেবার। আরেকবার প্রোডাকশন ম্যানেজার জুয়েলের ছেলে খুব অসুস্থ হয়েছিল। আমার সামনে তাকে চিকিৎসার জন্য টাকা দিয়েছেন। আসলে এগুলো অনেকেই জানে না। তিনি প্রচারও করেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত