বেনাপোল কাস্টমস হাউসের গোপনীয় ভোল্ট ভেঙে ১০ কোটি টাকা মূল্যের ২০ কেজি স্বর্ণ চুরির ঘটনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সরেজমিনে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে তদন্ত শুরু করবেন আগামী রবিবার।
কাস্টমস সূত্র জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই টিমের নেতৃত্বে আছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ( প্রশাসন) খন্দকার আমিনুর রহমান, সি আইসেলের যুগ্ম কমিশনার জাকির হোসেন, যশোরের পুলিশ সুপার মইনুল হক, বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হুসাইন চৌধুরী ও বেনাপোল কাস্টমস এর অতিরিক্ত কমিশনার ড. নেয়ামুল ইসলাম।
দুর্ধর্ষ চুরির রহস্য উদঘাটনে বেনাপোল পোর্ট থানাসহ র্যাব, ডিবি, সিআইডি এবং পিবিআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বেনাপোলের বিভিন্ন স্থানে তদন্ত কাজ করছেন। তারা বিভিন্ন ব্যক্তি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছেন আলাদা করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্র, শনি ও রবিবার ঈদে মিলাদুন্নবীর সরকারি ছুটি ও বুলবুলের কারণে কেউ অফিসে ছিল না। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চোরেরা সোমবার ভোরে অফিসের ভোল্ট ভেঙে ২০ কেজি স্বর্ণ চুরি করে নিয়ে যায়।
যশোর ডিবি পুলিশের ওসি মারুফ আহম্মদ জানান, কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাহারুল সর্দার, সিপাহী পারভেজ, পিয়ন টিপু সুলতান, আজিবর রহমান, মহাব্বত হোসেন, সুরত আলী ও আলাউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে আমরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে।
চুরির ঘটনায় কাস্টমস এর যুগ্ম কমিশনার শহিদুল ইসলামকে প্রধান করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে কাজ করে যাচ্ছে।
কাস্টমস’র ডেপুটি কমিশনার এস এম শামীমুর রহমান জানান, পুরনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় ৪ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে গোপনীয় একটি কক্ষের তালা ভেঙে ভোল্ট ভেঙে ৩০ কেজি স্বর্ণের মধ্যে ২০ কেজি লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ভোল্টে কোটি কোটি টাকার ডলার ও টাকা থাকলেও শুধু মাত্র ২০ কেজি স্বর্ণ নিয়ে যায় তারা। ভোল্ট ভাঙার আগে দুর্বৃত্তরা সিসি ক্যামেরার সবগুলো সংযোগ কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
ভোল্টে কাস্টম, কাস্টম শুল্ক গোয়েন্দা, বিজিবি ও পুলিশের উদ্ধার করা সোনা, ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রাসহ মূল্যবান দলিলাদি ছিল।
কাস্টমস হাউসের বেশ কিছু বহিরাগত পিয়ন বিভিন্ন শাখায় অবৈধভাবে কাজ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তাদের মধ্যে ক্যাশ শাখার দায়িত্বে থাকা পিয়ন টিপু ও আজিবর এ ঘটনায় জড়িত বলে পুলিশ জানায়। তারা দু জনই বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন খান বলেন, ‘বেনাপোল কাস্টমসের ভোল্টে ডুপ্লিকেট চাবি ব্যবহার করে স্বর্ণ চুরি করা হয়েছে। তবে তদন্ত কাজ চলছে। দ্রুতই স্বর্ণ উদ্ধারসহ দুর্বৃত্তদের আটক করা সম্ভব হবে।
