ফিলিস্তিনে ইহুদি বসতি স্থাপনে মার্কিন স্বীকৃতি মানবে না মালয়েশিয়া

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৫৯ পিএম

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মালয়েশিয়া।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন আবদুল্লাহ জানান, ইহুদি স্থাপন নিয়ে মার্কিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না মালয়েশিয়া।

তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ইয়েনি শাফাক জানায়, বৃহস্পতিবার মস্কোতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান সাইফুদ্দিন আবদুল্লাহ।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে মালয়েশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে বিরোধিতা করছে মালয়েশিয়া।’

তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সমস্যার সমাধান রাজনৈতিকভাবেই সম্ভব, এতে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে।‘

এই ইস্যুতে মালয়েশিয়ার অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এমন অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সমস্যার সমাধানের মৃত্যু ঘটবে।‘

প্রসঙ্গত, সোমবার ওয়াশিংটন জানায়, ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকে এখন আর অবৈধ মনে করছে না ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও জানান, বলেন, ‘সবপক্ষের আইনি বিতর্কগুলো সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে যুক্তরাষ্ট্র  এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ নয়।’

তিনি বলেন, ‘সেখানে বেসামরিক নাগরিকের বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়ে কোনো কাজ হয়নি। এতে শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে।’

১৯৬৭ সালে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময় ইসরায়েল ফিলিস্তিনের এই অঞ্চলে জোরপূর্বক দখলে নিয়ে নেয় এবং সেখানে বসতি স্থাপন করে।

এই অঞ্চল নিয়ে ইসরায়েল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের এই বসতি স্থাপনকে স্বীকৃতি দেননি। কিন্তু তার পরে ক্ষমতায় আসা ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই নীতির পরিবর্তন ঘটালেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত