দেশের অন্তত ৩০ ভাগ নারী কর্মের প্রয়োজনে গণপরিবহনে যাতায়াত করেন। যার ৯৪ শতাংশই পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে নানাভাবে হয়রানির শিকার হন।
শনিবার রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশে (পিআইবি) অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে ব্র্যাকের জেন্ডার অ্যান্ড জাস্টিস ডাইভার্সিটি প্রোগ্রামের জেন্ডার বিশেষজ্ঞ হোসনে আরা বেগম এ তথ্য জানান। ‘গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা’ বিষয়ক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
এতে হোসনে আরা বেগম আরও বলেন, শুধু গণপরিবহন নয়, নারীর চলাচলের সবদিকগুলোই আমাদের ভাবতে হবে। আমরা গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তার কথা বলছি, একই সঙ্গে রাস্তায় তাদের সম্মান দেওয়ার কথা।
তিনি জানান, গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের এই হয়রানিতে যুবকদের থেকে প্রাপ্ত বয়স্কদের পরিমাণই বেশি। আর পরিবহনে হয়রানির পর শুধু কয়েকটি সংগঠন বা কয়েকজন নারীই প্রতিবাদ করেন। তবে, এদের সঙ্গে বিভিন্ন পরিবহন সংস্থা বা ধর্মীয় সংগঠনেরও এগিয়ে আসা উচিত।
সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, গণপরিবহন হলো সেবা খাত, যা এখন আর নেই। এই সেবা খাত এখন বাণিজ্যিক হয়েছে। গণপরিবহনে নারীদের মা-বোন ভাবা ধারণা থেকে বেরিয়ে যাত্রী হিসেবে ভাবতে হবে। এ ছাড়া পরিবহনের শ্রমিকদের যথা যত সম্মান দেওয়া উচিত যাত্রীদেরও।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জোবেদা খাতুন বলেন, আমরা শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা ভুলে গিয়ে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছি। আর পরিবহনে ড্রাইভার-হেলপারদের মানসিক স্বাস্থ্যর ব্যাপারটা ভয়াবহ। প্রায় প্রতিদিন ড্রাগ নেওয়ার ফলে তাদের একটা সমস্যা থেকেই যায় যেখান থেকে তারা স্বাভাবিক আচরণ করতে পারে না।
রোড সেফটি প্রোগ্রামের প্রধান ডা. কামরান উল বাসেত বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু মানসিক উন্নয়ন হয়নি। সরকারি পরিবহন খাতে এখন অবধি কতজন আছেন যারা নারীচালক? আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগ ও যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ড্রাইভারদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পরিবারও দেখার বিষয়।
বিপ্লবী সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আলী রেজা বলেন, আমরা গণপরিবহনের উন্নয়ন, নারীদের নিরাপত্তার কথা সেমিনার করে বলি। ড্রাইভারদের সভায় ডেকে নিয়ে শেখায়। কিন্তু এতে করে কতজনের কাছে পৌঁছানো যায়? আমাদের উচিত টার্মিনালগুলোতে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলা। তাদের কাছ থেকে সমস্যার সমাধান চাওয়া। এতে করে সমাধানের কিছু পথ যেমন আসবে, তেমনি একসঙ্গে বার্তা পৌঁছাবে তাদের অনেকের কাছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান জ্যোতির্ময় বড়ুয়ার সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির লিগ্যাল ইকোনমিস্ট ও ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান সিদ্দিকী।
