বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল মুজাহিদুল ইসলাম মৃদুল (২০) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়াটার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যাওয়ার সময় চালক বন্ধুকে বাঁচিয়ে নিজেই ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হন মোটরসাইকেল আরোহী মৃদুল। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃদুলের স্বজনরা জানান, ডেমরা সালামবাগ ৩ নম্বর রেডের ২নম্বর বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন মৃদুল। ৬ ভাই ও ১বোনের মধ্যে পঞ্চম ছিল মৃদুল। তার বাবা মাহফুজ মিয়া বেশ কয়েক বছর আগেই মারা যান।
নিহত মৃদুলের বন্ধু সাজ্জাদ হোসেন নাইম একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিকেলের দিকে মৃদুল ও তার বন্ধু রায়হান তালুকদারের মোটরসাইকেলে চড়ে এলাকাতেই ঘুরতে বের হয়েছিলেন। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন রায়হান। চলন্ত অবস্থায় ডেমরা স্টাফ কোয়াটার মোড়ের কিছু দূরেই একটি ট্রাক তাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বাম দিকে চাপ দেয় ট্রাকের চালক। এতে তাদের মোটরসাইকেল পড়ে যায়।
তখন রায়হান ডান দিকে কাত হয়ে পড়ে যেতে চাইলে মৃদুল রায়হানকে হাত দিয়ে টেনে ধরে সোজা করে। তবে তিনি নিজেই আর ভারসাম্য ধরে রাখতে পারেননি। তখন ডান পাশে মৃদুল কাত হয়ে পড়ে গেলে প্রথমে তার পায়ের উপর দিয়ে ট্রাকের চাকা চলে যায়। পরে পেছনের চাকায় পিষ্ট হন মৃদুল।
এরপর বন্ধু রায়হানই তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরপরই চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ভাই মুফাচ্ছেল হোসেন জানান, শুক্রবার আসরের নামাজের কিছুক্ষণ পর বাসা থেকে কাউকে কিছু না বলেই বের হয় মৃদুল। এর আধাঘণ্টা পরই শুনতে পাই সে স্টাফ কোয়াটার এলাকায় অ্যাকসিডেন্ট করেছে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর সন্ধ্যায় হাসপাতালে এসে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই।
তিনি আরও জানান, কবি নজরুল কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থী ছিল মৃদুল। তবে গতবার সে পরীক্ষা দেয়নি। এবার পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে।
ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে ট্রাক চালককে আটক করা হয়েছে। এবং ট্রাকটিও জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আর ময়নাতদন্তর জন্য মৃতদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।
