উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে গিয়েছিলেন তিনি। অনেক ভালো সুযোগ ও চাকরি থাকার পরও নিজের মানুষের টানে, মানুষের জন্য কিছু করবেন বলে দেশেই ফিরে আসেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ।
ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের শিক্ষায়, স্বাস্থ্যে উন্নত করতে, স্বাবলম্বী করতে নেন একের পর এক পদক্ষেপ। সেসবে সফলও হন তিনি।
স্যার ফজলে হাসান আবেদ অর্জন করেন অনেক বিদেশি পুরস্কারও। আন্তর্জাতিকভাবেও তিনি খ্যাত একজন মানুষ। ইংল্যান্ড তাকে দিয়েছে সর্বোচ্চ খ্যাতি নাইট হুড। চাইলেই তিনি নিজের চিকিৎসা দেশে করাতে পারতেন। কিন্তু দেশপ্রেমী ফজলে হাসান আবেদ বিদেশে যাননি শেষ মুহূর্তে। দেশেই তার চিকিৎসা নিয়েছেন। অসুস্থ হওয়ার পর ভর্তি হয়েছেন রাজধানীরই এক হাসপাতালে।
দীর্ঘদিন ধরে স্যার ফজলে হাসান আবেদ অসুস্থ ছিলেন। গত ২৮ নভেম্বর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত অবস্থায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানেই শুক্রবার তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
সময়-সুযোগ থাকার পরও দেশেই চিকিৎসা নেওয়ার এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে তার প্রশংসা করছেন।
সাংবাদিক জাহিদ নেওয়াজ খান ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বিখ্যাত হলেও দেশে মৃত্যুবরণ করা যায়। মৃত্যুতেও উদাহরণ রেখে গেলেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ’।
মুক্তিযোদ্ধা ফজলে হাসান আবেদ মুক্তিযুদ্ধ অংশ নেয়ার পর দেশে ফিরলেও আর চাকরিতে যোগ দেননি।
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ভারত-প্রত্যাগত শরণার্থীদের জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজে আত্মনিয়োগ করেন। এ লক্ষ্যে তিনি ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করে সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত শাল্লা এলাকায় ফিরে আসা শরণার্থীদের নিয়ে আর্থসামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করেন। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ব্র্যাক।
