বরগুনায় স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিতে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাখাওয়াত হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সাখাওয়াত হোসেনকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে বুধবার সাখাওয়াতের স্ত্রী বরগুনা সদর থানায় বাদী হয়ে নারী নির্যাতনের একটি মামলা দায়ের করেন।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় পুলিশ সদস্য সাখাওয়াতকে কারাগারে পাঠানোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সাখাওয়াত হোসেন পাথরঘাটা থানায় পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সাখাওয়াতের স্ত্রীর অভিযোগ, আগের দুই স্ত্রী ও সন্তান থাকার কথা গোপন রেখে আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে পরে আমাকে বিয়ে করে সাখাওয়াত। কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর সে আমার বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক দাবি করে। যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে সে আমার ওপর নির্যাতন শুরু করে এবং ডিভোর্সের জন্য চাপ দিতে থাকে।
রাজি না হওয়ায় গত বছরের ২৩ নভেম্বর সাখাওয়াত হোসেন ও তার সহযোগীরা আমাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। একপর্যায়ে সাখাওয়াত হোসেন দা নিয়ে আমাকে প্রাণে মারার জন্য কোপ দেয়। এ সময় আমি হাত দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে আমার কবজি কেটে যায়। এ সময় তারা একটি তালাক নামায় আমার স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এরপর সাখাওয়াতসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা আমাকে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বরগুনা নিয়ে আসে।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, বিভিন্ন দপ্তরে ঘোরাঘুরির পর বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিলে তিনি বিষয়টি আমলে নিয়ে বরগুনা সদর থানাকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলে দেন। পরে বরগুনা সদর থানায় নারী নির্যাতন আইনে মামলা করি।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, তাকে শাস্তি পেতে হবেই। সাখাওয়াত আমাদের পুলিশ বাহিনীর কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিল। স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হলে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করি। থানায় আটক অবস্থায় উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও আইন লঙ্ঘন করার কারণে প্রাথমিকভাবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশ সুপার সাখাওয়াতকে সাসপেন্ড করেছেন। আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
