দিনাজপুরে কবরস্থান থেকে অর্ধশতাধিক কঙ্কাল চুরি

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ০২:০৪ এএম

দিনাজপুরে গত দেড় মাসে অর্ধশতাধিত কঙ্কাল চুরি হওয়ায় আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে দুটি কবরস্থানের আশপাশের এলাকার মানুষের।

সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের উত্তর শিবপুর কবরস্থান থেকে গত দেড় মাসে ২২টির বেশি কঙ্কাল চুরি হয়েছে। একই ইউনিয়নের সদরপুর ডাঙ্গাপাড়া তুলা উন্নয়ন বোর্ড কবরস্থান থেকে ১৫ দিন আগে ওই এলাকার সোলায়মান হোসেনের স্ত্রীর কবর থেকে কঙ্কালটি চুরি হয়ে গেছে। ওই কবরস্থান থেকে এক মাসে ২০টির বেশি কঙ্কাল চুরি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

মূলত কবরস্থানগুলোতে কোনো সীমানাপ্রাচীর, নৈশ্যপ্রহরী না থাকার কারেেণই এমন ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছন এলাকাবাসী। উত্তর শিবপুর সরকারি কবরস্থানে ৬ মাস আগে দাফন করা হয় পার্শ্ববর্তী দরবারপুর গ্রামের সোহরাব আলীকে। কিন্তু গত বুধবার কবরস্থানে তার পরিবারের লোকজন গিয়ে দেখতে পান কবর খোঁড়া। কবরে নেই মৃতদেহের অংশবিশেষ।

যে কবরগুলো একটু পুরোনো হয়েছে সেসব কবর থেকে কঙ্কাল চুরি হচ্ছে। সুন্দরবন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অশোক কুমার রায় বলেন, ‘কঙ্কাল চুরির বিষয়টি এলাকাবাসী আমাকে জানিয়েছেন। আমি দুটি কবরস্থানে গিয়ে দেখে এসেছি। কঙ্কাল চুরির বিষয়টি আমি থানায় জানালে ওসি সাহেবও এসে দেখে গেছেন। কবরস্থানগুলো জঙ্গলের মধ্যে কিংবা লোকালয় থেকে অনেক দূরে হওয়ায় নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না।’

জানতে চাইলে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বজলুর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে স্থানগুলো থেকে কঙ্কাল চুরি হয়েছে সেগুলো আমরা পরিদর্শন করেছি। কঙ্কাল চুরির বিষয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছি।’ খুব শিগগির চোর ধরতে সক্ষম হবেন বলে জানান তিনি।

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহ মো. ইসমাইল হোসেন কঙ্কাল চুরির বিষয়ে বলেন, ‘মানবদেহের কঙ্কাল সাধারণত মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তিনি যখন মেডিকেল কলেজে লেখাপড়া করেছেন তখন সায়েন্টিফিক দোকান থেকে ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় একটি কঙ্কাল কিনেছেন। কঙ্কাল চুরির বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, এখন একটি কঙ্কাল ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একটি চক্র এসব কঙ্কাল চুরি করে সায়েন্টিফিক দোকানে বিক্রি করতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত