আগ্রায় বন্দী ছেলেকে দেখতে যেতে ভিক্ষা করছেন কাশ্মীরি মা

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৫:১৮ পিএম

উত্তরপ্রদেশে জেলে বন্দী ছেলেকে দেখতে ভিক্ষা করে বেড়াচ্ছেন এক কাশ্মীরি মা। গত বছরের আগস্টের শুরুতে গ্রেপ্তার করা হয় ২২ বছর বয়সী আসিফ আহমেদ খুশো নামে কাশ্মীরি তরুণকে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শ্রীনগরের এসডি কলোনির বাড়ি থেকে আসিফকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।

পরে শ্রীনগরের সেন্ট্রাল জেলে খোঁজ করতে গিয়ে মা জামরোদা আর বাবা মুস্তাক জানতে পারেন, আসিফকে উত্তরপ্রদেশের আগ্রার জেলে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র একবার ছেলের মুখ দেখতে পেয়েছেন তারা।

আগ্রায় যাতায়াতের খরচ অনেক। তাই অসুস্থ শরীরেও বাড়ি বাড়ি ভিক্ষার ঝুলি হাতে ঘুরছেন জামরোদা। তিনি বলেন, ‘আমি আর আমার স্বামী অক্টোবরে একবার ছেলেকে দেখতে গিয়েছিলাম। তারপর টাকার অভাবে আর যেতে পারিনি। তাই সকলের কাছে সাহায্য চাইছি।’

জানা যায়, অষ্টম শ্রেণির পর আর পড়াশোনা করেননি আসিফ। জুতো বিক্রির কাজ করতেন। বিক্ষোভ দমনে দেশটির বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তবে বাবা মুস্তাকের দাবি, তার ছেলে পাথর ছোড়ার সঙ্গে জড়িত নয়। তিনি বলেন, ‘সে সময় সকলেই রাস্তায় ছিল। আমার ছেলে পাথর ছোড়েনি, তবু গ্রেপ্তার করে নিয়ে গিয়েছে ওকে।’

জামরোদা চান, সরকার তার ছেলেকে শ্রীনগরের সেন্ট্রাল জেলে ফেরত পাঠাক, তা হলে অন্তত ছেলেকে দেখতে পাবেন তারা।

শুধু আসিফের পরিবার নয়, কয়েক হাজার কাশ্মীরিকে উপত্যকার বাইরের জেলে পাঠানো হয়েছিল। দূরত্ব ও যাতায়াতের খরচের কারণে সন্তানের সঙ্গে একবারের জন্যও দেখা করতে পারেননি অনেক পরিবার।

আসিফের মতো একই আইনে গ্রেপ্তার করা হয় ত্রিশ বছর বয়সী ছেলে ফয়জল আসলাম মিরকেও। বাবা মারা যাওয়ার পর মা আতিকা বানু থাকতেন ছেলের সঙ্গেই। আগে কখনো উপত্যকার বাইরে যাননি তিনি।

এখন ছেলেকে দেখার জন্য একার পক্ষে উত্তরপ্রদেশে যাওয়া সম্ভব নয় তার। আতিকা বানু হতাশ গলায় বলেন, ‘তখন অসুস্থ ছিলাম আমি। ছেলে ওষুধ আনতে গিয়েছিল। আমি বারবার করে কারফিউর মধ্যে বের হতে বারণ করেছিলাম। ও বলল, ওষুধ নিয়েই চলে আসব। অনেকক্ষণ পরও না ফেরায় খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এরপর শুনি তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত