চিকিৎসকদের স্বেচ্ছাচারিতায় ভোগান্তিতে বেরোবির শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৫:৪০ পিএম

চিকিৎসকদের স্বেচ্ছাচারিতায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসা শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির আবাসিক-অনাবাসিক দশ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসক রয়েছেন পাঁচজন। তাদের মধ্যে একজন ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ে আছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সকালে চিকিৎসকরা সঠিক সময়ে মেডিকেল সেন্টারে আসেন না, আবার নির্ধারিত সময়ের আগেই মেডিকেল সেন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে রোগীদের বসিয়ে রেখে ফেসবুক চালানো, দরকার হলেও অ্যাম্বুলেন্স দিতে গড়িমসি করা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, মেডিকেল সেন্টারের নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের অফিস সময় (ছুটি বাদে) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু সকাল ৯টায় আসার কথা থাকলেও দুপুর ১২টায় এসে বিকেল ৪টার মধ্যেই চলে যান তারা। নিয়ম না মেনেই অফিস সময় শিফটে ভাগ করে তিন ঘণ্টা করে ডিউটি করেন তারা। প্রশাসনকে না জানিয়ে শিফট ভাগ করার পরও মাঝেমধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোনো চিকিৎসককেই সেন্টারে পাওয়া যায় না।

ফলে অসুস্থ শিক্ষার্থীরা সেবা না পেয়ে চার কিলোমিটার দূরে রংপুর মেডিকেল কলেজ বা বিভিন্ন বেসরকারি মেডিকেল সেন্টারে যেতে বাধ্য হন। বিভিন্ন সময় ভোগান্তির শিকার হয়ে একাধিক শিক্ষার্থীকে চিকিৎসকদের অনিয়মের বিষয়ে ফেসবুকে পোস্টও দিয়েছেন।

কয়েক দিন আগে ফেসবুকে বেরোবির মেডিকেল সেন্টারের একটি ছবি ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়- চিকিৎসা নিতে আসা অসুস্থ শিক্ষার্থীকে বসিয়ে রেখে মোবাইলে ব্যস্ত আছেন চিকিৎসক। ছবিটি ভাইরাল হলে চিকিৎসকদের নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ভুক্তভোগী বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রিপন জানান, চিকিৎসকের কাছে অসুস্থতার কথা বলছিলাম আর তিনি ফেসবুক চালাচ্ছিলেন। তখন আমার বন্ধু ছবিটি তুলেছিল।

অভিযুক্ত চিকিৎসক অলক কুমার এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুত্তাকিন বলেন, মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে চিকিৎসক পাওয়া যায় না। কয়েক দিন আগে অসুস্থ অবস্থায় মেডিকেল সেন্টারে গেলে আমাকে অপেক্ষা করতে বলে ভিসি স্যারের বাংলোতে যান তিনি। দেড় ঘণ্টা বসে থাকার পর কর্মচারী বলেন, চিকিৎসক চলে গেছেন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মেডিকেল অফিসার শাহরিয়ার বলেন, নন স্টপ সেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই আমাদের ডিউটি নিজেরা ভাগ করে নিয়েছি।

অ্যাম্বুলেন্স দিতে গড়িমসির ব্যাপারে তিনি বলেন, অনেক সময় আমরা যাচাই করার জন্য বিভাগের স্যারের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলি। তারা বললে দিয়ে দিই।

সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, চিকিৎসকদের অফিস সময় শিফটে ভাগ করার বিষয়টি আমার জানা নেই। একজন চিকিৎসক ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ে আছেন। তিনি অফিসে যোগ দিলেই সব সমাধান হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত