শরিফুলের হতাশার দিনে শাহাদাতের ৩ উইকেট

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:১৩ এএম

ব্যাপারটা একটু ঘুরিয়ে ভাবা যাক। অতিথি এসেছেন। তার আপ্যায়নে ত্রুটি রাখা যাবে না। জিম্বাবুয়ে দলের জন্য ২২ তারিখ শুরু টেস্টের আগে আপ্যায়নে ত্রুটি রাখেওনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিকেএসপিতে গতকাল শুরুর ম্যাচে যে খটখটে-পাটা উইকেট তারা দিয়েছে তাতে চাইলে এই ম্যাচের গোটা দু’দিনই ব্যাট করে কাটিয়ে দিতে পারত জিম্বাবুয়ে।

যদিও উপমহাদেশের উইকেটে অন্য মহাদেশ থেকে আসা ক্রিকেটারদের স্পিন খেলাতে সমস্যা। তার প্রমাণ রেখেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতে আসা অফ স্পিনার শাহাদাত হোসেন। জিম্বাবুয়ে ৭ উইকেটে ২৯১ রান তুলে দিন শেষ করেছে। গোটা কয়েক ক্যাচ না পড়লে ইনিংস শেষ হতে পারত গতকালই। ওই সাত উইকেটের তিনটি শাহাদাতের। দুটি অন্য স্পিনার আল আমিনের। একটি রান আউট। যেটি আর বাকি থাকে তা বিশ্বকাপ জিতে আসা দীর্ঘদেহী ফাস্ট বোলার শরিফুল ইসলামের।

একজন তাই উইকেট নিয়ে অভিযোগ করতে করতে কথাটা ঘুরিয়ে বললেন, ‘টেস্টের আগে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং প্র্যাকটিস দরকার। ওদের কথা ভেবেই মনে হয় এমন উইকেট।’

সেই উইকেটে পেসারদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়। বিসিবি একাদশে বল করেছেন তিন পেসার। শরিফুলের কাছাকাছি বয়স মুকিদুল ইসলাম ও সুমন খানের। প্রথমজন বাঁ-হাতি। অন্য দুজন ডানহাতি পেসার। দিনের ৯০ ওভারের মধ্যে ৩৯ ওভার তাদের। প্রতিদানে মোটে একটা উইকেট! মানা যায়?

না মেনেও উপায় নেই বলে শরীরে জোর যতটা সময় থেকেছে ততটা সময় তরুণ পেসাররা খেটে গেছেন। এক পর্যায়ে দুই প্রান্তেই লাগাতার স্পিন বোলিং করিয়ে যাওয়া। কখনো এক প্রান্তে অফ স্পিন তো অন্য প্রান্তে লিগ, কোনো সময় দুই প্রান্তেই লেগি। আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও রিশাদ হোসেন দুই লেগি মিলে ৩১ ওভার বল করেছেন। বিপ্লবের ১৯, রিশাদের ১২। উইকেটশূন্য দুজনই। সেখানে যুব বিশ্বকাপে এক ওভারও বল না করা অফি শাহাদাত হোসেনের বোলিং ফিগার অন্যদের জন্য রীতিমতো ঈর্ষা করার। ৮-২-১৬-৩। দ্বিতীয় সেশনে সপ্তম বোলার হিসেবে এসে টানা এক স্পেলে ওই কাণ্ড করে গেছেন শাহাদাত।

জিম্বাবুয়ের ওপেনার কেভিন কাসুজা ৫১ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে বিশ্রামে গিয়েছিলেন। পরে ফিরে ৭০ করে রান আউট হয়ে গেছেন। অন্য ওপেনার প্রিন্স মাসাউরের ব্যাট থেকে এসেছে ৪০। মাঝে টিমিসেন মারুমা ৩৪ রান দিয়ে গেছেন। কার্ল মুম্বা ৫৪ ও আইন্সলে নভু ২৫ রানে অপরাজিত। ৬৪ রানের অষ্টম অবিচ্ছিন্ন উইকেট জুটি তাদের।

এই ম্যাচে দুই সেশন উইকেটকিপিং করেছেন বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক আকবর আলী। তারপর খুশি মনে পানি টেনেছেন। প্র্যাকটিস ম্যাচ বলে এই সুবিধা। বিশ্বকাপ জয়ী দলের ৬ সদস্য এখানে। যার যেটা কাজ তাতে সুযোগ মিলবে সবার।

তবে প্রথম দিনের শেষে বিসিবি একাদশের পেসারদের ভার মুখের পাশে সবচেয়ে আলোকিত শাহাদাতের মুখ। তার কাছে যে এতটা প্রত্যাশা কেউ করেনি। ‘বিশ্বকাপে আমাদের বোলিংয়ের অনেক অপশন ছিল। মূল বোলার ছাড়াও দুইজন বাড়তি বোলার ছিল। ছয়জন বোলার ছিল, সবাই ভালো করত।’ পেছনের কথা টেনে এনে শাহাদাত বলছিলেন, ‘কেউ যদি খারাপ করত তাহলে হয়তো আমি আসতাম। কেউ খারাপও করেনি, আমারও আসা হয়নি।’

এই ম্যাচ থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান বুঝি হতে পারেন ১৮ বছরের শাহাদাত। ব্যাটে চমৎকার। বোলিংটা ঠিকঠাক যোগ করতে পারলে সামনে তো স্বীকৃত অলরাউন্ডার। নিজের মধ্যে সেটা দেখতেও পাচ্ছেন শাহাদাত, ‘আমি কিন্তু বিশ্বকাপে বোলিং করিনি। এই বোলিংয়ের পর আত্মবিশ্বাস বাড়বে। ওটা বাড়লে দারুণ হবে আমার জন্য।’

স্থানীয় পেসারদের হতাশার দিনে অন্তত এটা তো প্রাপ্তি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত