নোয়াখালীতে মুখোশধারীদের গুলিতে ছাত্রলীগ নেতা নিহত

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২০, ০৯:১৮ পিএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে আহত এক ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। তার নাম রাকিব হোসেন (২৫)।

সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

এর আগে গত রবিবার রাতে স্থানীয় আমান উল্যাহপুর বাজারে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় মুখোশধারী একদল দুর্বৃত্ত। ওই ঘটনায় নিহত রাকিবসহ আরও বেশ কয়েকজন আহত হন।

এই হামলার জন্য স্থানীয় জামায়াত ও শিবির নেতাকর্মীদের দায়ী করেছে আওয়ামী লীগ। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জামায়াত-শিবিরের চার নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত রাকিব আমান উল্যাহপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি একই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

বেগমগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশিদ দেশ রূপান্তরকে জানান, রবিবার রাত ৮টার দিকে যুবলীগ নেতা রায়হান, ছাত্রলীগ নেতা সজীব, রাকিব, হাবিব ও আবদুল মন্নান ওরফে মনু আমান উল্যাহপুর (পালোয়ান বাড়ি) বাজারে কামালের চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় মুখোশপরা ১৫-২০ জন দুর্বৃত্ত ওই দোকানে ঢুকে গুলি করে ও কুপিয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগের পাঁচ নেতাকে আহত করে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে রাতেই রাকিবকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং হাবিবকে (২২) ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। সোমবার দুপুর ১২টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রাকিব।  

ওসি হারুনুর রশিদ আরও জানান, ঘটনার পর বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই হামলায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে। তারা হলেন জামায়াত নেতা ফারুক হোসেন ও আসলাম হোসেন এবং শিবির নেতা রোকন ইব্রাহীম ও মাসুদ। তাদের পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আমান উল্যাহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটা জামায়াত-শিবিরের সুপরিকল্পিত হামলা। মুখোশধারী ২০-২৫ জন সশস্ত্র শিবির ক্যাডার ওই হামলা চালায়। হামলাকারীদের প্রত্যেকের কাছে রাইফেল ছিল।’

প্রত্যক্ষদর্শী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘১০-১৫ জনের একটি গ্রুপ মুখোশ পরে দোকানে ঢzকেই ছাত্রলীগ নেতাদের গুলি করে সোজা পূর্ব দিকে চলে গেছে। তখন বাজারে থাকা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও প্রতিরোধ না করে ভয়ে পালিয়ে যায় এবং বাজার বন্ধ হয়ে যায়।’

হামলার জন্য জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের দায়ী করে স্থানীয় সাংসদ মামুনুর রশিদ কিরণ বলেন, ‘এই এলাকাটা জামায়াত-শিবিরের দুর্গে পরিণত হয়েছে। তাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই। এই অঞ্চলের সর্বশেষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ পর্যন্ত পুলিশ ৪ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং সব সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত