মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ থেকে কুয়েতগামী প্রবাসীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ৭ মার্চ শুরু হবে। করোনাভাইরাস ঠেকাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির নতুন এক নিয়মের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ জন্য পাসপোর্ট, বিমানের টিকিট এবং ওয়ার্ক-অর্ডার অর্থাৎ কার্যাদেশের কপি সঙ্গে নিয়ে যাত্রীদের আসতে হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এক বৈঠকে বৃহস্পতিবার রাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সেখানে বলা হয়, শনিবার থেকে ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথে চারটি বুথ খোলা হবে, এর মধ্যে একটি থাকবে নারী শ্রমিকদের জন্য।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা বিবিসিকে বলেন, “আমরা স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় দেখবো তাদের কোন লক্ষণ বা উপসর্গ আছে কিনা, তারা কতদিন আগে এসেছে দেশে এবং ১৪দিন পার হলে ওই সময়ের মধ্যে কোন উপসর্গ দেখা গেছে কিনা, যদি না দেখা যায় এবং সে সুস্থ থাকে তাহলে আমরা ধরে নেব, সে করোনাভাইরাস মুক্ত।”
তবে কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিনা তা বোঝার জন্য বিশ্বব্যাপী যে পরীক্ষা চালানো হয় অর্থাৎ রক্ত বা লালার পিসিআর মানে পলিমেরেজ চেইন রিঅ্যাকশন পরীক্ষা, সে পদ্ধতিতে সবার পরীক্ষা করা হবে কিনা সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অধ্যাপক তাহমিনা বলেন, “কারণ এই পরীক্ষা অল্প সময়ে এত বেশি মানুষকে করা মুশকিল হবে। তা ছাড়া এটি নতুন একটি ভাইরাস, এখনো এটি শনাক্তের জন্য যে ‘ডায়াগনস্টিক কিট’ বাংলাদেশে এসেছে তা এখনো খুবই অল্প পরিমাণে আছে।”
এ কারণে সরকার পরিকল্পনা করছে যে তারা কুয়েত সরকারকে অনুরোধ জানাবে যাতে পিসিআর পরীক্ষা ছাড়াই যেন বাংলাদেশের শ্রমিকদের কুয়েতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
গত ৩ মার্চ কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১০টি দেশ থেকে কুয়েতে যাওয়ার ক্ষেত্রে করোনাভাইরাস মুক্ত থাকার সনদ দেখাতে হবে। এ নির্দেশনা কার্যকর হবে ৮ মার্চ থেকে।
ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস মুক্ত থাকার সনদ সঙ্গে না আনলে বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের কর্মীদের কুয়েতে ঢুকতে দেওয়া হবে না এবং একই বিমানে সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরত পাঠানো হবে। সে ক্ষেত্রে কুয়েত সরকার কোন খরচ বহন করবে না।
হঠাৎ এমন ঘোষণায় কুয়েত থেকে দেশে ছুটি কাটাতে এসে ফিরে যাবেন এমন শ্রমিকেরা বিপদে পড়েছেন। কোথায় পরীক্ষা করানো যাবে, কোথা থেকে সনদ পাওয়া যাবে— এমন ভাবনায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট বা আইইডিসিআরে ভিড় করেন বহু শ্রমিক। কারণ বাংলাদেশে কেউ করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছেন কিনা, সেটি পরীক্ষা করে কেবলমাত্র আইইডিসিআর।
