মেয়েকে অপহরণ এবং স্ত্রীকে হুমকি দিয়েছিলেন দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। তার বিরুদ্ধে আনা সাবেক স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া বিনতে আল-হোসাইনের এমন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে ব্রিটিশ আদালতে।
বিবিসি জানায়, শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে নিজের মেয়েদের অপহরণ, তাদের জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনেন প্রিন্সেস হায়া। এমনকি সাবেক স্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন দুবাই শাসক।
আট মাস আগে ব্রিটিশ হাইকোর্টে এই ‘হাই-প্রোফাইল’ মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। অনুসন্ধানী তদন্ত, সাক্ষ্য প্রমাণ ও শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার দুবাই শাসকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পায় আদালত।
মেয়েদের মতো প্রিন্সেস হায়াও অপহরণ হতে পারেন এমন আশঙ্কায় লন্ডনে পালিয়ে যান। এক জার্মান কূটনীতিকের সহযোগিতায় গোপনে দেশ ছাড়েন প্রিন্সেস হায়া। পরবর্তীতে লন্ডনের একটি আদালতে শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এদিকে ব্রিটিশ আদালতের এ রায় যেন জনসমক্ষে প্রকাশ না হয়, এমন চেষ্টা করেছিলেন শেখ মোহাম্মদ। কিন্তু তার আপিল শেষমেশ প্রত্যাখ্যাত হয়।
তবে রায় প্রকাশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় ধনকুবের দুবাই শাসক বলেন, “একটি দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে আমি আদালতের তথ্য অনুসন্ধানী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারিনি। ফলে যে রায় প্রকাশিত হয়েছে, তা একপেশে।”
তিনি মামলাটিকে ‘একান্ত ব্যক্তিগত’ ব্যাপার গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ করেন, তারা যাতে তার সন্তানদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে এবং তাদের যুক্তরাজ্যের জীবনে অনুপ্রবেশ না করে,”
রায়ে আদালত জানায়, তারা শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অন্য স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেয়া নিজের দুই মেয়েকে অপহরণ ও জোর করে দুবাই ফিরিয়ে নেয়ার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে।
২০১৮ সালে দুবাই ছেড়ে সমুদ্রপথে পালিয়ে যান দুবাই শাসকের মেয়ে শেখ লতিফা। ভারত উপকূলে সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাদের বহনকারী নৌযানটি আটক করে তাকে দুবাই ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এর আগে ২০০২ সালেও একবার পালানোর চেষ্টা করে সফল হননি প্রিন্সেস লতিফা। সেবার তাকে তিন বছর গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল।
তারও আগে ২০০০ সালে আরেক মেয়ে শেখ শামসাকে অপহরণ করেছিলেন দুবাই শাসক। যুক্তরাজ্যের সারি কাউন্টির পারিবারিক বাসভবন থেকে পালিয়ে যান প্রিন্সেস শামসা। পরে শেখ মোহাম্মদের লোকেরা তাকে ক্যামব্রিজশায়ার থেকে অপহরণ করে দুবাইতে নিয়ে যায়।
