লালমনিরহাট পৌরসভার উত্তর সাপটানা শখের বাজার কুমারপাড়া গ্রামে খালের ওপর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি তিন বছরেও নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ১১ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় ধরলা নদীর পানির তোড়ে ওই সেতুটি ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। পানি নেমে গেলে এলাকাবাসী বাঁশ সংগ্রহ করে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে। ওই সাঁকো দিয়েই তিন বছর ধরে এলাকার আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে আসছে।
সেতু না থাকায় এখানকার ১১টি গ্রামের কয়েক হাজার কৃষক পরিবার তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য পার্শ্ববর্তী কুলাঘাট, ভাটিবাড়ি, মোগলহাট, মেগারাম ও বড়বাড়ি বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারছেন না। তাদেরকে অনেক দূর ঘুরে কৃষি পণ্য পরিবহন করে বাজারে নিতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়ে কৃষি পণ্যের সঠিক মূল্য পেলেও লাভের মুখ দেখছেন না কৃষকরা।
এলাকাবাসী জানান, গত এক মাসে মোটরসাইকেল আরোহী, নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ১০ জন ওই বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে। বর্তমানে সাঁকোটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
এলাকাবাসী আশরাফুল ইসলাম জানান, সাঁকোটির পাশে পৌরসভা কোটি টাকা ব্যয়ে পরিবেশবান্ধব ময়লার ডাম্পিং তৈরি করেছে। কিন্তু পৌরসভা ১১টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তার এই ছোট সেতুটি নির্মাণ করছে না। এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পৌরসভার মেয়র, স্থানীয় এমপিসহ মন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছে। কিন্তু আবেদনের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুটি নির্মাণ হয়নি।
লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু জানান, সেতুটি পৌরসভার ভেতরে পড়েছে ঠিকই কিন্তু রাস্তাটি পৌরসভার নয়। এটি এলজিইডির রাস্তা। তাই এখানে সেতু নির্মাণের দায়িত্ব এলজিইডি কর্তৃপক্ষের। পৌরসভার পক্ষ থেকে এলজিইডিকে পত্র দিয়ে জানানো হবে বলে তিনি জানান।
লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ আলী খাঁন জানান, বরাদ্দের অভাবে এখানে নতুন করে সেতু নির্মাণ করা যাচ্ছে না। তবে প্রজেক্ট তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে ।
