গভীর রাতে তিনটি থানকুনিপাতা খেলে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে বরিশালের গৌরনদী, আগৈলঝাড়া ও উজিরপুর উপজেলায়।
এ গুজব ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা থেকে ফজর নামাজের আগ পর্যন্ত পাতা খাওয়ার হিড়িক চলে।
গৌরনদী পৌরসভার দক্ষিণ বিজয়পুর গ্রামের জরিনা বেগম (৫৫) নামে এক নারী বলেন, রাতে ফোন দিয়ে এক আত্মীয় থানকুনি পাতা খাওয়ার বিষয়টি জানান। রাত তিনটায় তিনি পাতা তুলে খেয়ে নেন এবং ফোন দিয়ে অন্য স্বজনদেরও পাতা খেতে বলেন।
উজিরপুর উপজেলার সখিনা বেগম (৬০) বলেন, ‘রাইতে মোগো আত্মীয়রা জানাইছে, তিনডা থানকুনিপাতা খাইলে আর করোনা অইবে না। হেইয়ার লাইগ্গা মোরা রাইতে পাতা খাইছি। হগ্গলডিরে পাতা খাইতেও কইছি।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আগৈলঝাড়া উপজেলার এক ব্যক্তি জানান, এক পীর স্বপ্নে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির এই তরিকা পেয়েছেন বলে শুনেছেন। ওই পীর সবাইকে পাতা খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পীরের নাম জানতে চাইলে তারা বলেন, তা তো জিজ্ঞাসা করেননি।
গৌরনদী পৌরসভার এক নারী জানান, খবর পেয়েও তিনি পাতা খাননি। তবে তার বাড়ির পাশে রাত তিনটা থেকে ফজরের নামাজের আজান পর্যন্ত পাতা খাওয়ার ধুম পড়ে।
এ গুজবের ব্যাপারে জানতে চাইলে উজিরপুর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শওকত আলী বলেছেন, স্বাস্থ্য বিজ্ঞানে থানকুনি পাতার অনেক গুনাগুণ আছে। কিন্তু তিনটি পাতা খেলে করোনভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে, এর কোনো সত্যতা নেই। গুজবে কান দিয়ে অনেকে পাতা খেয়েছেন।
