শরীয়তপুরে বিদেশ ফেরতরা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকছেন না

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২০, ০৬:৫৫ পিএম

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যেসব প্রবাসী শরীয়তপুর এসেছেন তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে বিদেশ ফেরত অধিকাংশ প্রবাসীই মানছেন না স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা। থাকছেন না হোম কোয়ারেন্টাইনে।

শরীয়তপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৮ মার্চ দুপুর পর্যন্ত ২৭৭ জন প্রবাসী শরীয়তপুরে এসেছেন। এদের মধ্যে ১৪ দিন পার হওয়ার পর ৫৪ জনকে কোয়ারেন্টাইন থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শরীয়তপুরে হোম কোয়ারান্টাইনে আছে ২২৩ জন। সদর হাসপাতালে পাঁচ শয্যার ও প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ শয্যার করে আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য জেলায় ১০০ বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলায় কোন করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা যায়নি।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী শরীয়তপুরের অন্তত দেড় লাখ মানুষ প্রবাসে থাকেন। তাদের অধিকাংশই ইতালিতে বসবাস করেন। এর মধ্যে নড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের রয়েছেন প্রায় ৭২ শতাংশ। তবে সম্প্রতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণে এসব প্রবাসীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন তাদের পরিবার ও এলাকাবাসী। কারণ বিদেশ ফেরত অধিকাংশ প্রবাসীই মানছেন না স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা ও থাকছেন না হোম কোয়ারেন্টাইনে।

জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা যেসব প্রবাসীরা মানবেন না তাদের বিরুদ্ধে ‘সংক্রমণ রোগ নিরোধ আইন’ প্রয়োগ করা হচ্ছে। হোম কোয়ারেন্টাইন না থেকে এলাকা ও বাজারে ঘুরে বেড়ানোর দায়ে দুই ইতালিপ্রবাসীকে ৭৫ হাজার টাকা এবং একজন সৌদি আরব প্রবাসীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার এবং সচেতন হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি।

নড়িয়া উপজেলার ভূমখাড়া ও একই উপজেলার ভোজেশ্বর এলাকার দুই যুবক ইতালি ও দুবাই থেকে দেশে ফিরেছেন সপ্তাহখানেক আগে। তাদের মঙ্গলবার স্বজনদের নিয়ে এলাকায় মোটরসাইকেলে ঘুরতে দেখা গেছে। তাদের দেশে এসে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকছেন না কেন জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, আমাদের ইতালি ও দুবাই থেকে পরীক্ষা করে দেশে পাঠানো হয়েছে। আমাদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। তবে আমরা সুস্থ আছি। তাই ঘুরে বেড়াচ্ছি।

নড়িয়া উপজেলার উপজেলার ভোজেশ্বর এলাকার এক দুবাই প্রবাসীর বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। দুবাই প্রবাসীর স্ত্রী জানান, তার স্বামী ১০দিন হলো দুবাই থেকে ফিরেছেন। দেশে ফিরে এলাকায় ও বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

জেলার নড়িয়া উপজেলার নজরুল ইসলাম (৩৮) বলেন, শুনেছি ইতালির অবস্থা খুবই খারাপ। আমার আপন ভাই ভাবিসহ প্রায় ২০ স্বজন ইতালিতে অবস্থান করছে। তাদেরকে নিয়ে আমরা খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছি। এদিকে ইতালি থেকে অনেকেই দেশে ফিরে এসেছেন। তাদের অনেকেই হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। আবার কেউ কেউ এলাকায় ও বাজারে ঘোরা ফেরা করছেন।

ডামুড্যা উপজেলার ইসলামপুর ইউপি সদস্য ইব্রাহিম সরদার বলেন, আমার চার মেয়ে, চার ছেলে। তিন ছেলেই বিদেশে থাকে। দুজন কাতারে এবং একজন কুয়েত। আমি সন্তানদের নিয়ে চিন্তায় আছি। ওদের নিরাপদে থাকতে বলেছি।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. এসএস আব্দুল্লাহ আল মুরাদ জানান, মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিদিন প্রবাসীদের পর্যবেক্ষণ করছেন, দিচ্ছেন পরামর্শ । অনেক ক্ষেত্রে এসব স্বাস্থ্যকর্মীরা মুখোমুখি হচ্ছেন নানা বিড়ম্বনার। তবে সব ধরনের বাধা অতিক্রম করে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা মাঠে থাকবেন। যারা বিদেশ থেকে ফিরেছেন তাদের ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য বলছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত