নীলফামারীতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র স্থাপন

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২০, ০৫:২৫ পিএম

নীলফামারীতে হাসপাতাল এখন অনেকের কাছে আতঙ্ক। করোনাভাইরাসের প্রাদুভাব ঘটায় ছোট-খাটো সমস্যায় হাসপাতাল বিমুখ অনেকে। ফলে বিভিন্ন হাসপাতালে কমেছে রোগি। আবার অনেক চিকিৎসক বন্ধ করে দিয়েছেন ব্যক্তিগত চেম্বার। এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়া সাধারণ সর্দি-কাশি, জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের সুখবর নিয়ে এসেছে ডেনিস বাংলাদেশ লেপ্রসি মিশন। 

নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থাপিত ওই ক্যাম্পে সংস্থাটির চিকৎসকরা বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন গত ৮ এপ্রিল থেকে। সাধারণ সর্দি-হাঁচি-কাশিসহ বিভিন্ন  রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে সেখানে।

রবিবার ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, সাধারণ সর্দি-হাঁিচ-কাশিতে আক্রান্তদের চিকিৎসা নিতে। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। 

হালকা জ্বর ও গলা ব্যাথায় আক্রান্ত হয়ে সেখানে চিকিসা নিয়েছেন শহরের শাহিপাড়া মহল্লার আনিছুর রহমান (৫০)। এসময় তিনি বলেন, ‘করোনার পাদুর্ভাব ঘটায় হাসপতালে যেতে ভয় লাগে। ওই ভয়ে সেখানে যাওয়ার ইচ্ছা করে না। দুই দিন থেকে জ¦র ও গলাব্যাথা ভূগছি। দুই দির থেকে ডাক্তারদের ব্যক্তিগত চেম্বাওে যাচ্ছি, কিন্তু ডাক্তার পাওয়া যাচ্ছে না। করোনার কারণে তারা চেম্বার বন্ধ। শনিবার সন্ধ্যায় মাইকিং শুনে আজ রবিবার এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছি। তারা ওষুধ লিখে দিয়েছেন, কিছু নিয়ম মেনে চলতে বলেছেন’।  

ওই ক্যাম্পের চিকিৎসক বেনজামিন জুয়েল রোজারিও বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমনের কারণে সাধারণ রোগীরা অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিৎ করতে ডেনিস বাংলাদেশ লেপ্রসি মিশন জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ওই ক্যাম্পের আয়োজন করেছে’।

অপর চিকিৎসক পার্থ প্রদীপ প্রামাণিক জানান, সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সেখানে গত ৮ এপ্রিল পাঁচ জন, ৯ এপ্রিল ১০জন, ১১ এপ্রিল ২৩জন এবং রবিবার ৫০জন সর্দি-কাশি ও গলাব্যাথার রোগীকে চিকিৎসা পত্র প্রদান করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে এই উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। এটি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চলবে। এতে করে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা সেবার আওতায় আসবে’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত