পৃথিবীর অনেক ঘটনা নিয়ে তোলপাড় করা ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন ফরাসি জ্যোতিষবিদ নস্ত্রাদামুস। ৪০০ বছর আগে তার করে যাওয়া ভবিষ্যৎ বাণীগুলো নিয়ে এখনো নানা জল্পনা কল্পনা।
২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর ঘটনা ও অর্থনৈতিক মন্দা নিয়েও তার তত্ত্ব আছে। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন এই বিখ্যাত জ্যোতিষবিদ।
মিচেল ডি নস্ত্রাদাম বা নস্ত্রাদামুস ছিলেন মূলত ১৬ শতকের একজন চিকিৎসক ও লেখক। অনেকের মতে, তার অনেক ভবিষ্যদ্বাণী কয়েকশ বছর পরও অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেছে। বলা হয়ে থাকে, পৃথিবীতে হিটলারের উত্থান এবং ১৬৬৬ সালে লন্ডনের বিশাল অগ্নিকাণ্ড নিয়ে নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন নস্ত্রাদামুস। ১৫৫৫ সালে প্রকাশিত তার লেখা ‘লেস প্রোফেশিজ’ বইটিতে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে চার লাইনের ছন্দোবদ্ধ কবিতায় তিনি অসংখ্য ভবিষ্যদ্বাণী করেন।
তার ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে, ২০১৮ সাল থেকে বিশ্ববাসীর জন্য অপেক্ষা করছে ভয়ংকর ছয়টি বিপদ। যার মধ্যে ওই বছরে প্রবল ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হবে যুক্তরাষ্ট্র। ধ্বংসলীলা ও ক্ষয়ক্ষতিতে বিপুল পরিমাণে প্রাণহানি ও সম্পত্তি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা।
নস্ত্রাদামুস তার লেখা একটি বইতে জানিয়েছেন, শক্তিধর দেশগুলির হাতে পরমাণু অস্ত্র এসে যাওয়ায় ২০১৯ সালে শুরু হবে পরমাণু যুদ্ধ, যা ছারখার করে দেবে গোটা পৃথিবীকে। ২০৪৬ সাল পর্যন্ত পৃথিবীতে অশান্তি ছেয়ে থাকবে। তিন দশকব্যাপী এই যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে মানবসভ্যতা !
নস্ত্রাদামুস আরও বলেন, মানবসভ্যতার ধ্বংসের বীজ লুকিয়ে রয়েছে ২০২০ সালে। এই সালেই একটি নতুন দিগন্তের সূচনা দেখতে চলেছে গোটা বিশ্ব। তার আগে বিশ্বের বহু শক্তিধর দেশ কোনো বড় ঝড়ের আশঙ্কায় একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হতে পারে।
এই জ্যোতিষবিদ জানান, ২০২০ সালে অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড়সড় মন্দা দেখতে চলেছে। অর্থনীতির সংকট এই বছর জোরালো হতে পারে।
অনেকেই দাবি করছেন, কবিতার ছন্দে নস্ত্রাদামুস লিখে গেছেন, উপকূলবর্তী একটি শহরে বিপুল এক মহামারীর সূত্রপাত হবে। মৃত্যুর প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত এটি থামবে না। এক সতর্কবার্তায় নস্ত্রাদামুস বলেছেন, মহামারীটি ইতালির বিভিন্ন শহরে মারাত্মক আঘাত হানবে এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।
করোনার জেরে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কার্যত লকডাউন। ইতিমধ্যেই আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকের মতো সংস্থাগুলোও নজিরবিহীন অর্থনৈতিক মন্দার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। ফলে ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা ও দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়ার যে প্রবল আশঙ্কা সেটাই যেন ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছিলেন নস্ত্রাদামুস।
