চট্টগ্রামের পটিয়ায় ত্রাণ বিতরণে সরকারি নির্দেশ না মানা এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন অভিযোগ তোলায় নুর হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে মারধর করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এ ঘটনায় জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের এয়াকুবদন্ডী ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহাদাত হোসেন সবুজসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করেন ওই ব্যক্তি।
১১ এপ্রিল মারধরের অভিযোগ এনে পটিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই ব্যক্তি।
অভিযোগে জানা যায়, পটিয়ার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি হিসেবে ইউপি সদস্য শাহাদাত হোসেন সবুজ সম্প্রতি বেশ কিছু দরিদ্র পরিবারকে বাদ দিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেন। এর প্রতিবাদ করলে নুর হোসেনকে ডেকে নিয়ে সবুজসহ ৮-১০ জন লোক মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এলাকাবাসী জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর পক্ষ থেকে কয়েক ভাগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া পটিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে হুইপ সামশুল হক চৌধুরী নিজ অর্থায়নে উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন ও পটিয়া পৌরসভায় ৬ হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এসব ত্রাণের মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, আলু, সাবান, মাস্ক ও হেক্সিসলসহ অন্যান্য পণ্য।
তবে নিজেদের পছন্দ মতো লোককে ত্রাণের কিছু প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে ফটোসেশন করে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে বিতরণকারীদের বিরুদ্ধে।
তা ছাড়া সরকারি নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগও উঠেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে পাঠানো নির্দেশনায় ভোটার আইডি কার্ড না থাকলেও অসহায়, গরিব ও দুস্থ ব্যক্তিদের ত্রাণ দিতে বলে। যা পটিয়ায় মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে হুইপ সামশুল হক চৌধুরী তার ফেইসবুকে ঘোষণা দেন, ‘পটিয়া পৌরবাসী, মধ্যবিত্ত, সাধারণ শ্রেণির পরিবারের কথা চিন্তা করে যাদের পৌর এলাকার ভোটার আইডি কার্ড রয়েছে তাদের জন্য বিশেষ ওএম এস চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সাপ্তাহিক তিন দিন রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার। সকাল থেকে ২টা পর্যন্ত। ১, ৪, ৫, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের যারা আছেন তারা উপজেলার সামনে থেকে সংগ্রহ করবেন। ২, ৩, ৭, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ড পৌরসভা অফিসের সামনে থেকে সংগ্রহ করবেন। প্রতি সপ্তাহে এক পরিবারকে ৫ কেজি চাউল ৫০ টাকায় দেয়া হবে। যার যার স্থান থেকে প্রতি সপ্তাহে তিন দিনে ২০০ পরিবার করে ৬০০ পরিবারকে তিন হাজার কেজি করে দুই স্থান থকে ১২০০ পরিবারকে ৬০০০ কেজি দেওয়া হবে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় এই (ভোটার আইডি কার্ড না থাকলেও ত্রাণ বিতরণ) নির্দেশনা মেনে ত্রাণ বিতরণ করবে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট দুর্যোগে সিটি করপোরেশন, উপজেলা বা পৌরসভায় বসবাসকারী নিম্ন আয়ের মানুষ যেমন: বস্তিবাসী, বেকার শ্রমিক, চা শ্রমিক, রেস্তোরাঁ শ্রমিক, মোটরযান শ্রমিক, নির্মাণ ও কৃষি শ্রমিক, চা দোকানদার, দিনমজুর, ভবঘুরে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক ব্যক্তি, স্বামী পরিত্যক্তা বা বিধবা নারী, রিকশা ও ভ্যানচালক, ভিক্ষুক, বেদে ও হিজড়া সম্প্রদায় এবং পথশিশুদের মধ্যে প্রয়োজন ‘অনুযায়ী ত্রাণ’ সামগ্রী বিতরণ করতে হবে। ভোটার আইডি কার্ড না থাকার অজুহাতে কোনো অসহায়, ভাসমান গরীব ও দুস্থ ব্যক্তিদের ত্রাণ বিতরণ থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।
এর আগে গত বছরের ১৪ জুন পটিয়ার ছনহরায় ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। চাল বিতরণের সময় একটি পরিবারের একাধিক সদস্য এবং আর্থিক অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তিদের চাল নিতে দেখা যায়।
বিষয়টি নজরে এলে ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। নামের তালিকা সমন্বয় করার উদ্যোগ না নেওয়ায় ওই সময় স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন স্থানীয়রা।
