সাভারে আবারও করোনা রোগী সন্দেহে রাতের আঁধারে এক বৃদ্ধাকে রাস্তায় ফেলে রেখে গেছেন তার মেয়েরা। খবর পেয়ে সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতলে ভর্তি করেন এবং তার চিকিৎসাসহ যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার রাতে সাভার পৌর এলাকার তালবাগ মহল্লা থেকে ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব বলেন, করোনা আক্রান্ত সন্দেহে পরিবারের সদ্যরা তাকে ফেলে রেখে গেছে। তার ছেলে নাই, মেয়েরা হাতে কিছু খাবার দিয়ে মাথার চুল ছেঁটে এখানে ফেলে রেখে গেছে। এই মুহূর্তে তিনি বাড়ির ঠিকানাও বলতে পারছে না। তাই আপাতত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হবে।
বুধবার তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। তার শরীরে করোনা রয়েছে কিনা সেই রেজাল্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া যতদিন তিনি সুস্থ না হবে এবং বাড়ির ঠিকানা না বলতে পারবে ততদিন এই মায়ের দায়িত্ব আমি নিলাম।
স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার রাতের আঁধারে ওই বৃদ্ধাকে মানিকগঞ্জ থেকে নিয়ে এসে তার দুই মেয়ে চুল কেটে ফেলে রেখে যায় সাভারের তালবাগ এলাকায়। বিষয়টি জানাজানি হলে খবর পেয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একরামুল হক এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
পরে সাভার উপজেলা প্রশাসন ওই বৃদ্ধার চিকিৎসাসহ সকল দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাকে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে দেন। এর দুইদিন পূর্বে এক বৃদ্ধ নারীকে করোনা রোগী ভেবে তার ছেলেরা ফেলে যায় সাভারের হেমায়েতপুর জয়নাবাড়ি এলাকায়।
খবর পেয়ে সাভার উপজেলা প্রশাসন ওই বৃদ্ধাকে মায়ের মর্যাদা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে সকল দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজুর রহমান বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং হৃদয়বিদারক ঘটনা। এর আগে উদ্ধার হওয়ায় বৃদ্ধাকে আমরা যেভাবে মর্যাদা দিয়ে দায়িত্ব নিয়েছি আজকের এই মাকেও আমরা একইভাবে মর্যাদা দিয়ে দেখভাল করবো।
তবে তিনি এ ঘটনায় যে সন্তানেরা বৃদ্ধাকে ফেলে রেখে গেছেন তাদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা বৃদ্ধ মা-বাবাদের এভাবে রাস্তায় ফেলে যাচ্ছেন তাদের প্রত্যেকেই দেশের সকল উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় খুঁজে বের করা হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে।
