দিনাজপুরে করোনাঝুঁকিতে সিএইচসিপির স্বাস্থ্যকর্মীরা

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২০, ০৭:১৯ এএম

মরণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ায় হুমকির মুখে পড়েছেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার বা সিএইচসিপির স্বাস্থ্যকর্মীরা। কোনোরকম সুরক্ষাব্যবস্থা ছাড়াই প্রতিদিন রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। দিনাজপুরের ১৩ উপজেলায় ৩২২টি কমিউনিটি ক্লিনিক আছে। প্রত্যেকটি কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা সুরক্ষাব্যবস্থা ছাড়াই স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

সিএইচসিপির স্বাস্থ্যকর্মীরা অভিযোগ করেন, করোনা পরিস্থিতিতে গ্রামপর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক বা সিএইচসিপিতে মানুষের ভিড় বেড়েছে। বেশির ভাগ মানুষ জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে আমাদের কাছে আসছেন ওষুধ নিতে। আবার অনেকেই ভয়ে হাসপাতালে না গিয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে আসছেন। আমরা কোনোরকম সুরক্ষাব্যবস্থা ছাড়াই প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি। কেউ ঢাকা থেকে কিংবা নারায়ণগঞ্জ থেকে এলেও বোঝার কোনো উপায় থাকছে না। আবার কারও শরীরে করোনাভাইরাস আছে কি না সেটাও জানার উপায় নেই আমাদের। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছি।

সিএইচসিপি স্বাস্থ্যকর্মীদের এই পরিস্থিতিতে এক মাস আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো থেকে দুই জোড়া হ্যান্ড গ্লাভস আর দুটি সাধারণ মাস্ক ও একটি হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল এবং কাজের চাপ বেশি থাকায় অল্পদিনেই সেগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে।

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের ‘হোসেনপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে’ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন মানুষ সাধারণ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) আবদুল মান্নানের কাছে। আবদুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমানে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে আমাদের কোনো ধরনের সুরক্ষাব্যবস্থা নেই। বাধ্য হয়েই প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’

কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সিএইচসিপি স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষাব্যবস্থার জন্য জেলা সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের বলেছি। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারেননি।’

সিএইচসিপি স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষাব্যবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. আবদুল কুদ্দুছ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে সময়ে সময়ে অনেক কিছু পরিবর্তন হচ্ছে। বর্তমান সময়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীদের কথা আমরা সবচেয়ে বেশি ভাবছি। ইতিমধ্যে সিএইচসিপির স্বাস্থ্যকর্মীদের পিপিই, গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত