ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে গরুর ঘাস রাখাকে কেন্দ্র করে মো. মহিউদ্দিন নামে সাত বছরের এক শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় মো. কবির (১৫) নামে এক প্রতিবেশী কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার গভীর রাতে বাড়ির পাশের বিল থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
নিহত শিশু মহিউদ্দিন উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের নাজির বাড়ি এলাকার লিয়াকত মিয়ার ছেলে। সে এলাকার নোয়াগাও পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। আটক কবির ওই এলাকার জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে।
সরাইল থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন পূর্বে কবির গরুর জন্য ঘাস কেটে এনে পাশের মহিউদ্দিনদের বাড়িতে রাখে। এ নিয়ে মহিউদ্দিনের মায়ের সাথে ঝগড়া হয় কবিরের।
এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে কবির প্রতিশোধ নিতে প্রতিজ্ঞা করে। এর জের ধরেই গত ৩০ মে ঘাস কাটার কথা বলে কবির মহিউদ্দিনকে বিলের পাড়ে নিয়ে গলায় টিপে ধরে হত্যা করে। মহিউদ্দিন নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। রবিবার ভোরে এক ব্যক্তি বিলের পাড়ে মহিউদ্দিনের লাশ পড়ে থাকতে দেখে বাড়িতে খবর দেয়।
সরাইল থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, মহিউদ্দিন বৃহস্পতিবার সকালে নিখোঁজ হলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে পরদিন সাধারণ ডায়েরি করা হয়। ডায়েরির সূত্র ধরে সন্দেহজনকভাবে কবিরকে আটক করে পুলিশ। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুসারে মহিউদ্দিনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
সরাইল থানার ওসি নাজমুল আহমেদ জানান, কবির মিয়ার গরুর ঘাস রাখাকে কেন্দ্র করে ওই শিশুর পরিবারের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধের বিষয়টি সে মনে চাপা দিয়ে রাখে। প্রতিশোধ নিতে শিশুটিকে হত্যা করা হয় বলে সে স্বীকার করেছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
