পাবনার বেড়া উপজেলার দুর্গম চরে অসুস্থ অবস্থায় ফেলে যাওয়া সেই বৃদ্ধ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন। ঐ বৃদ্ধ মানসিক রোগী। অসুস্থ অবস্থায় ফেলে যাওয়া বৃদ্ধকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ল্যাবে তার নমুনা পরিক্ষার ফল পাওয়ার পর বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মানসিক ভারসাম্যহীন ওই বৃদ্ধের স্বজনদের খোঁজ না পাওয়ায় তাকে মঙ্গলবার বিকেলে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার মো. জাহিদ হাসান সিদ্দিক জানান, গত ১৯ এপ্রিল উপজেলার নতুনভারেঙ্গা ইউনিয়নে অবস্থিত যমুনা নদীর দুর্গম চরসাফুল্যা গ্রামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক বৃদ্ধকে (৭০) ফেলে রেখে যাওয়া হয়। ওই বৃদ্ধের শরীরে জ্বর, সর্দি, কাশিসহ করোনাভাইরাসের উপসর্গ ছিল। এলাকাবাসীর ধারণা করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকার কারণেই যাত্রীবাহী কোনো নৌকা থেকে ওই বৃদ্ধকে সেখানে নামিয়ে দেওয়া হয়। অসুস্থ হয়ে তিনি গ্রামের একটি বাড়ির কাছে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকলে এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন।
ইউএনও এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে ভর্তি করে রাখা হয়। এর পরদিন তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োজি বিভাগের ল্যাবে পাঠানো হয়। গত ২ মে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানতে পারে ওই বৃদ্ধ করোনায় আক্রান্ত নন। ইতিমধ্যেই তিনি জ্বর-কাশি থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
এদিকে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই বৃদ্ধের স্বজনদের খোঁজ না পাওয়ায় তাকে নিয়ে বিপাকে পড়ে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ । করোনায় আক্রান্ত না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই উপজেলা প্রশাসন তাকে পুনর্বাসনের নানা উদ্যোগ চালিয়ে আসছিল। গত কয়েকদিন ধরে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন ইউএনও। মঙ্গলবার তার জন্য সেখানে একটি সিট পাওয়া যায় বলে জানা যায়।
ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, ঐ বৃদ্ধ মারাত্মক অমানবিক আচরণের শিকার হয়েছিলেন। তাকে উদ্ধার করে আনার পর থেকেই আমরা তার প্রতি যত্নবান ছিলাম। তাকে পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন বিকল্প বিষয় নিয়ে ভাবছিলাম। তবে পাবনা মানসিক হাসপাতালে তাকে ভর্তির বিষয়েই আমাদের আগ্রহ ছিল বেশি। শেষ পর্যন্ত তাকে সেখানে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় ভালো লাগছে। তবে পরর্বতীতে যদি কেউ উনার পরিচয় নিয়ে আসে তবে মানসিক হাসপাতাল থেকে নিয়ে যেতে পারবে।
