রাশিয়ায় আট দিনের ব্যবধানে তিনজন চিকিৎসক আত্মহত্যার করতে হাসপাতালের জানালা থেকে লাফিয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন। বাকিজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যার দিক দিয়ে পঞ্চম অবস্থানে আছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, স্পেন, যুক্তরাজ্যের পর সবচেয়ে সংক্রমণ ভ্লাদিমির পুতিনের দেশে।
সেখানে এক লাখ ৯০ হাজারের কাছাকাছি মানুষ কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে মারা গেছে এক হাজার ৭২৩ জন।
প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে রাশিয়ায়। এমন পরিস্থিতিদের চিকিৎসকদের এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটল।
রাশিয়ার একাধিক হাসপাতাল সূত্র জানাচ্ছে, বহু চিকিৎসকের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। টানা কয়েকদিন দশ হাজার করে মানুষের সংক্রমিত হওয়ার খবরে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাওয়ার মতো অবস্থা তাদের।
দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানায়, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে নেমে রাশিয়ার চিকিৎসকদের মধ্যে অস্বাভাবিকতা দেখা দিয়েছে। অনেকেই এর জন্য কাজের পরিবেশকে দায়ী করছেন। কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রুশ চিকিৎসকদের আত্মহত্যার প্রবণতা ট্র্যাজেডি বলে ব্যাখ্যা করেছে।
২৪ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত এই তিনটা ঘটনা ঘটে। ভোরোনেজ শহরে অ্যাম্বুলেন্সে জরুরি চিকিৎসা দিতেন আলেক্সান্ডার শুলেপভ। গত শনিবার হাসপাতালের জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়েন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছিল। চিকিৎসার জন্য শুলেপভকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অসুস্থ শরীর নিয়েও তাকে কাজ করতে বাধ্য করা হয় বলে অনেকে জানিয়েছেন।
এর আগে সাইবেরীয় শহর ক্রাসনোইয়ারস্ক-এর একটি হাসপাতালের জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়েন চিকিৎসক এলেনা নেপোমনিয়াশছায়া। এক সপ্তাহ ধরে আইসিইউতে চিকিৎসার পর তার মৃত্যু হয়। এর আগে স্টার সিটির ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিসের প্রধান নাতালিয়া লেবেদেভা হাসপাতালের জানালা থেকে লাফিয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তিনিও করোনা আক্রান্ত ছিলেন বলে চিকিৎসকেরা সন্দেহ করেছিলেন।
জানা যাচ্ছে, রুশ চিকিৎসকেরা অনেক চাপের মধ্যে কাজ করছেন। অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে পর্যাপ্ত সুরক্ষা তারা পাচ্ছেন না। এছাড়া সরকার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অমানসিক চাপ চিকিৎসকেরা মেনে নিতে পারছেন না।
অনেকের মতে, করোনাভাইরাস চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চিকিৎসকদের মারাত্মক দ্বন্দ্ব চলছে। রাশিয়ার চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সরকার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিপীড়নের শিকার বলেও আন্দাজ করা হচ্ছে। একেবারে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করতে নেমে তাই অনেক চিকিত্সক মানিয়ে নিতে পারছেন না।
