করোনা নিয়ে দাঙ্গায় পশ্চিমবঙ্গে কয়েকশ’ মানুষের ঠাঁই আশ্রয়কেন্দ্রে

আপডেট : ১৫ মে ২০২০, ০৯:৩২ এএম

মুসলিমরা করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছে- হিন্দুদের এমন টিটকিরি নিয়ে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গায় ভারতে পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার কয়েকশ’ মানুষ আশ্রয় শিবিরে ঠাঁই নিয়েছেন।

হিন্দু-মুসলিম দুপক্ষই বলছে, তাদের ঘরের সবকিছু পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে জীবন শুরু করতে হবে তাদের।

অভিযোগ উঠেছে, দাঙ্গার সময় ঘরে ঢুকে মুসলিমদের মারধর করেছে পুলিশ। ভাঙচুর করেছে ঘরের আসবাবপত্র।

বিবিসি বাংলা জানায়, হুগলী জেলার চন্দননগর লাগোয়া তেলেনিপাড়ায় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের দু’দিন পরে আজ সেখানে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে, তবে চাপা উত্তেজনা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১২৯ জনকে তারা গ্রেপ্তার করেছে। আটক দেখানো হয়েছে আরও ২১ জনকে।

চটকল এলাকার কয়েকশ’ ঘর দাঙ্গায় পুড়ে যাওয়ায় বহু মানুষ এখন স্থানীয় স্কুল বা আত্মীয় পরিজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। আর তার মধ্যেই কেউ কেউ নিজের ঘরে ফিরে গিয়ে খুঁজে দেখছেন যে কিছু অবশিষ্ট আছে কিনা।

স্থানীয় বাসিন্দা আফতাব সুলতান বিবিসিকে বলেন, ‘ঈদগাহ ময়দানের কাছে আমি যেখানে থাকি, তার পাঁচটি বাড়ি ছেড়ে পরপর তিনটি বাড়ি একদম পুড়ে গেছে। সবগুলোই মুসলমানদের ঘর।’

তিনি বলেন, ‘দিল্লির দাঙ্গায় যেসব জিনিস ব্যবহার করা হয়েছিল বলে টিভির খবরে দেখেছি, যেমন অ্যাসিড, পেট্রল আর গ্যাস সিলিন্ডার - এখানেও সেই সবের ব্যবহারের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি।’

হিন্দু এলাকার মধ্যে যেমন মুসলমানদের ঘর-বাড়ি পোড়ানো হয়েছে, তেমনই মুসলমান প্রধান এলাকাতে হিন্দুদের ঘরও পোড়ানো হয়েছে।

ওই অঞ্চলেরই বাসিন্দা মুহম্মদ আইনুল হক বস্তি এলাকা থেকে উঠে এসেছিলেন একটি সস্তা ফ্ল্যাটে। আশা ছিল শান্তিতে থাকবেন। কিন্তু সেই ফ্ল্যাট এখন বিধ্বস্ত, আশ্রয় নিয়েছেন মেয়ের বাড়িতে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ফ্ল্যাটে পুলিশ ঢুকে বেলা সাড়ে ৩টা নাগাদ। মেইন গেট ভেঙে তারা প্রত্যেকটা ফ্ল্যাটে ঢুকছিল আর বলছিল আপনারা যদি না বেরিয়ে আসেন তাহলে দরজা ভেঙে ঢুকে খুব মারব। তাই করছিল ওরা। তালা ভেঙে যাকে পেয়েছে, তাকে মেরেছে।’

‘তারপর ঘরে ঢুকে যা যা জিনিস ছিল- টিভি, ফ্রিজ, আলমারি সব তছনছ করে ফেলেছে। আবার সব নতুন করে গড়তে হবে আমাকে’ বলছিলেন আইনুল হক।

অভিযোগ প্রসঙ্গে চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বলেন, ‘কাউকে গ্রেপ্তার করতে গেলে দরজা যদি না খোলা হয়, সেক্ষেত্রে দরজার ছিটকিনি বা তালা ভাঙ্গার প্রয়োজনে পুলিশ দরজা ভাঙ্গতেই পারে।’

‘তবে তেলেনিপাড়া থেকে ঘরে ঢুকে ভাঙচুর করেছে পুলিশ, এরকম কোনো অভিযোগ আমি পাইনি। কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিশ্চয়ই নেব’ যোগ করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, কয়েকদিন আগে করোনা পরীক্ষার একটি শিবির করা হয়েছিল তেলেনিপাড়া এলাকায়। পরীক্ষায় প্রথমে একজন আর তারপরে আরও কয়েকজনের পজিটিভ রিপোর্ট আসে। ঘটনাচক্রে তারা সবাই মুসলমান।

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘ক্যাম্পটা মুসলমান প্রধান এলাকায় হয়েছিল, তাই স্বাভাবিকভাবেই পজিটিভ এলে মুসলমানদেরই হবে। কিন্তু সেটা নিয়ে হিন্দুদের একাংশ মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াতে থাকে। মুসলমানরাই করোনা ছড়াচ্ছে বলে টিটকিরি করা হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত