ডিলারদের কারসাজি বন্ধ

ঝিনাইদহে টিসিবির পণ্য কিনতে কার্ড টোকেন

আপডেট : ১৮ মে ২০২০, ০৬:১২ এএম

ঝিনাইদহে টিসিবির পণ্য বিক্রিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে চালু করা হয়েছে কার্ড ও টোকেন পদ্ধতি। পৌর এলাকার বাসিন্দাদের হোল্ডিং নম্বর দিয়ে দেওয়া হয়েছে অস্থায়ী কার্ড। যা দেখিয়ে ১৫ দিন পর পর মালামাল কিনতে পারছেন তারা। আর জেলা প্রশাসনের দেওয়া টোকেনের মাধ্যমে কার্ডধারীরা ডিলারদের কাছ থেকে পণ্য কেনায় বন্ধ হয়েছে ডিলারদের কারসাজিও।

জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের সহকারী পরিচালক সুচন্দ ম-ল দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ১ এপ্রিল ঝিনাইদহে পণ্য বিক্রি শুরু করে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। শুরুর দিকে লাইনে দাঁড়িয়ে একই ব্যক্তি প্রতিদিন পণ্য কিনছিলেন এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা দোকানের কর্মচারীদের লাইনে দাঁড় করিয়ে পণ্য কিনে মজুদ করছিলেন বলে অভিযোগ পায় জেলা প্রশাসন। এতে বঞ্চিত হচ্ছিল অনেকেই। এ সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসন ও ঝিনাইদহ পৌরসভা চালু করে কার্ড পদ্ধতি। পৌর এলাকার বাসিন্দাদের বাসার হোল্ডিং নম্বর দিয়ে কার্ড সরবরাহ করা হয়। ১৫ দিন পর পর সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে লাইনে দাঁড়িয়ে স্বল্পদামে পণ্য কিনতে পারছেন কার্ডধারীরা। একইসঙ্গে পণ্য বিক্রিতে ডিলারদের স্বচ্ছতা আনতে লাইনে দাঁড়ানো ক্রেতাদের হাতে দেওয়া হচ্ছে জেলা প্রশাসনের দেওয়া টোকেন। দিনের নির্দিষ্ট সময়ে কী পরিমাণ পণ্য বিক্রি করা হয়েছে টোকেনের মাধ্যমে তার হিসাব দেওয়া হচ্ছে।

বসির আহাম্মেদ নামে এক ক্রেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এর আগে কখনো কার্ড ও টোকেন পদ্ধতি চালু ছিল না। ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে বিশৃঙ্খলভাবে পণ্য কিনতে হতো। এখন শৃঙ্খলার সঙ্গে পণ্য কিনতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।’

কার্ড পদ্ধতির ব্যাপারে জানতে চাইলে মেসার্স রিসেন্ট ভ্যারাইটি স্টোরের মালিক টিসিবির ডিলার এম এ হাকিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কার্ড ও টোকেন পদ্ধতি চালু হওয়ায় আমরা সাধারণ মানুষের মধ্যে সেবাটা সহজে দিতে পারছি। এতে করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করতে পারছি। আর করোনার প্রভাব থেকেও অনেকটা মুক্ত হওয়া যাচ্ছে। আশা করি ভবিষ্যতেও কার্ড ও টোকেন পদ্ধতি চালু থাকবে।’

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, এখন পর্যন্ত পৌর এলাকায় ১০ হাজার কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। ৩টি জায়গায় ট্রাক সেলের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ৭শ জন উপকারভোগী তেল, চিনি, ডাল, খেজুর ও ছোলা কিনতে পারছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত