উইলিয়ামসনকে বিপিএল খেলার আমন্ত্রণ তামিমের

আপডেট : ২২ মে ২০২০, ০৬:০৯ এএম

বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, ফাফ ডু প্লেসি, ওয়াসিম আকরামদের মতো বিশ্বতারকার পর তামিম ইকবালের অনলাইন আড্ডায় গতকালের অতিথি ছিলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।

আড্ডার শুরুতে সৌজন্যতা শেষে নিউজিল্যান্ডের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান তামিম। বাংলাদেশ তারকাকে ধন্যবাদ জানিয়ে উইলিয়ামসন তাদের দেশের করোনা পরিস্থিতির খবর দেন। একই সঙ্গে সাইক্লোন আম্পান যেন বাংলাদেশে বেশি ক্ষতি না করে সেই প্রার্থনাও করেন উইলিয়ামসন, ‘এই সময়টা খুব কঠিন যাচ্ছে। পুরো বিশ্বই এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়ছে। আমরাও একই অবস্থায়। তবে আমরা হয়তো একটু সুবিধাজনক অবস্থানে আছি। কারণ, আমরা একটা দ্বীপ দেশ, আমাদের জনসংখ্যাও কম। সবচেয়ে ভালো বিষয় গত চার দিন আমাদের কোনো নতুন সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। আমরা গত ৬ সপ্তাহ ধরে লকডাউনে আছি। হয়তো এ কারণে ভাইরাসের প্রকোপ কমানোটা সহজ হয়েছে। তবে এই যুদ্ধটা আমাদের সবার। সবাইকে মিলিতভাবে এখানে লড়তে হবে। আশা করি বাংলাদেশ এই কঠিন অবস্থা দ্রুত কাটিয়ে উঠবে। পাশাপাশি প্রার্থনা করি সাইক্লোন (আম্পান) থেকে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে।’

নতুন নেতৃত্ব পাওয়া তামিম প্রতিপক্ষ অধিনায়কের কাছে জানতে চাইলেন নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জের ব্যাপারে। উইলিয়ামসনও তার নেতৃত্বের শুরুটা কীভাবে করেছিলেন সে ব্যাপারে টিপস দিলেন তামিমকে, ‘ম্যাককালাম সত্যিই দারুণ একজন ক্রিকেটার ও নেতা ছিল। ওর কাছ থেকে অনেক কিছুই শিখেছি। আমরা একই দলে খেলেছি, তাই মাঠে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে সেটা শিখেছি। তবে ম্যাককালাম সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জ রেখেছে সেটা হলো শূন্যতা। তার অবসরের পর আমাকে তার উপস্থিতি ছাড়াই সবকিছু সামলাতে হয়েছিল। একই সঙ্গে এই গ্রুপটাকে দল হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছিল। এটা সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটি গ্রুপ আগে থেকেই দল হয়ে খেলার জন্য তৈরি থাকলে অধিনায়কের কাজ অনেক সহজ হয়।’

নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ককে নিয়ে নিজের শোনা কথা জানতে চান তামিম। ম্যাককালাম একটি ৫০ ওভারের ম্যাচকে ৪০ ওভার ধরে খেলতেন। এ ব্যাপারে জিজ্ঞাস করাতে উইলিয়ামসন জানান, ‘একটি টেস্ট ম্যাচকেও সে ওয়ানডে মনে করত। এটা একদিক থেকে আমাদের দলের ওপর দারুণ প্রভাব ফেলে। আমরা চাইতাম কত দ্রুত জেতা যায়। যদি জিততাম তাহলে ভালো, না হলে ধরে নিতাম উন্নতির সুযোগ আছে। এছাড়া ম্যাককালামের মতো সবাই নয়। তার আলাদা খেলার ধরন। ওই আগ্রাসী মনোভাব দিয়েই সে নিজেকে তৈরি করেছে। এভাবে সে সফলও। আমরা ভাগ্যবান যে এমন একজন ক্রিকেটারকে পেয়েছিলাম।’

উইলিয়ামসনের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি এসেছিল মিরপুরে। তাই সেই সেঞ্চুরির স্মৃতির ব্যাপারে প্রশ্ন রেখেছিলেন তামিম। জবাবে অনেক দিন পর মনে পড়া কোনো কিছুর মতোই আনন্দিত হয়ে উইলিয়ামসন বলেন ‘হ্যাঁ, অবশ্যই; মিরপুরে আমার প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি ছিল। ওই সেঞ্চুরিটা অনেক কষ্টে পেয়েছিলাম। ওই ইনিংসের পর বুঝতে পারি একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারকে সবসময় ভালো ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হয় যেন মাঠে সে শক্তি পায়। এছাড়া ওই সিরিজে তোমাদের পরিবেশে তোমরা দারুণ খেলেছিলে। দর্শকরা তোমাদের ব্যাপক সমর্থন দিয়েছিল।’

কথায় কথায় টেস্ট-ওয়ানডে-টি-টেয়েন্টি তিন ফরম্যাটে কেন উইলিয়ামসনের প্রস্তুতির ব্যাপারে জানতে চান তামিম। জবাবে তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য নেট সেশনে খুব মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন উইলিয়ামসন। অবধারিতভাবে চলে আসে ২০১৯ ফাইনালের কথা। স্মৃতিচারণে উইলিয়ামসন আক্ষেপের কথাই বললেন, ‘আসলে এসব ম্যাচে যেকোনো এক দিকেই ফল যাবে। পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে হয় জিতব বা হারব। এছাড়া আর কিছুই নয়। ম্যাচটিতে খুবই চাপের পরিস্থিতি ছিল। আমরা শেষ পর্যন্ত এটাই মাথায় রেখেছি, সর্বোচ্চটা চেষ্টা করেছি। ফলাফলটা আমাদের দিকে আসেনি।’ আড্ডায় ফাফ ডু প্লেসির মতো উইলিয়ামসনকেও বিপিএলে খেলার আমন্ত্রণ জানান তামিম। জবাবে তামিমকে সময় পেলে অবশ্যই খেলার কথা জানান।

আড্ডার শেষে ক্রাইস্টচার্চ হামলার পর নিউজিল্যান্ডবাসীর আন্তরিকতাকে স্মরণ করেছেন তামিম। উইলিয়ামসনের মাধ্যমে তাদের ধন্যবাদ দিলেন বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক। ‘২০১৯ সালে ক্রাইস্টচার্চের ঘটনার পর নিউজিল্যান্ডের সবাই যেভাবে আমাদের দেখভাল করেছে, ছোট ছোট আরও অনেক ঘটনা, সেসব আজীবন মনে রাখব। নিউজিল্যান্ডের মানুষ যে ভালোবাসা তখন দেখিয়েছে, আমাদের দলের প্রতিটি সদস্য তা সব সময় মনে রাখবে। তোমাদের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই ছিলেন অসাধারণ। সেই সময়টায় তোমরা যা করেছ, সবকিছুর জন্য বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে আমি তোমাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত