লাশ পড়ে রইল বিছানায়, খবর পেয়ে ছুটে গেলেন নির্বাহী অফিসার

আপডেট : ২৮ মে ২০২০, ১২:৪২ এএম

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় শ্বাসকষ্টে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির লাশ কয়েক ঘণ্টা ঘণ্টা ধরে বিছানায় পড়ে ছিল। করোনা ভয়ে কেউ এগিয়ে যাচ্ছিল না। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গেলেন রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনতাসির জাহান।

বুধবার সোনাপুর সড়কের মৌলভী বাজারের ইব্রাহীম মিয়ার মেসে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ সোলেমান হোসেন (৫৫)। গ্রামের বাড়ি যশোরের ফুলবাড়িয়া। অলিম্পিক কনজুমার লি. এর মাঠকর্মী হিসাবে তিনি ওই মেসে ভাড়া থাকতেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনতাসির জাহান জানান, আমি লকডাউনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা আছে কি না দেখতে গিয়ে জানতে পারি মৌলভী বাজার সড়কের ওই ভবনের ২য় তলার একটি রুমে একজন লোক অচেতন হয়ে পড়ে আছেন। এ সময় আমি সেখানে গিয়ে আমার সাথে থাকা করোনা আক্রান্ত রোগীর দাফনকারী দলের সদস্যকে দিয়ে পরীক্ষা করে জানতে পারি তিনি অনেক আগেই মারা গেছেন। পরে আমি বিষয়টি পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জানাই।

স্থানীয় লোকজন জানান, সকালে সহকর্মী আবদুর রশিদসহ অন্যরা বিভিন্ন বাজারে মালামাল নিয়ে চলে গেলেও শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় সোলেমান হোসেন রুমে থেকে যান। দুপুরে একই ভবনের অন্য ভাড়াটিয়ারা সোলেমান হোসেনের রুমের দরজা খোলা থাকার পরও কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে রুমে গিয়ে দেখেন অচেতন অবস্থায় সোলেমান হোসেন বিছানায় পড়ে আছেন। এসময় তারা অন্য সহকর্মীদের খবর দিলে তারা রুমে এসে দেখেন সোলেমান হোসেন শরীর ঠান্ডা হয়ে আছে।

সহকর্মী আবদুর রশিদ জানান, আমরা খবর পেয়ে রুমে এসে দেখি সোলেমান ভাই মারা গেছেন। বিকাল ৩টায় রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফোন দিলেও প্রায় ৩ঘন্টা তারা আসব, আসছি করে সময় পার করেন।

তিনি আরও জানান, আমরা সোলেমান হোসেনের পরিবারকে বিষয়টি জানিয়েছি। তার স্ত্রী মোবাইলে জানান, তার স্বামীর ছোটবেলা থেকেই শ্বাসকষ্ট রয়েছে। তারা গ্রামের বাড়ি থেকে রামগঞ্জে রওনা দিয়েছেন।

রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, আমরা সন্ধ্যা ৬টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এস আই হুমায়ুন কবীরসহ কয়েকজন পুলিশ পাঠিয়েছি। হসপিটাল থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর বলা যাবে তিনি কিভাবে মারা গেছেন।

রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার গুনময় পোদ্দার জানান, আমরা খবর পেয়ে মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহের জন্য ডাক্তার কামাল হোসেনসহ অন্যদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। তবে ঘটনাস্থলে যেতে দেরি হওয়ার ব্যাপারে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত