প্রায় তিন মাস নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন। এতে বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলোর দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে রেজল্যুশনসহ ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সরেজমিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। বোরহান উদ্দিনের অবর্তমানে উপজেলা অ্যাকাডেমিক কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীরা দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। শিক্ষকরা জানান, শিক্ষা কর্মকর্তা অফিসে না আসায় বিভিন্ন মাদ্রাসা ও স্কুল-কলেজের দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে তথ্য পাঠাতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশে দাপ্তরিক কাজ নিজে সামলাচ্ছেন বলে জানান হাকিমপুর উপজেলা অ্যাকাডেমিক কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দপ্তরের একজন জানান, করোনার কারণে অফিস বন্ধ। এজন্য স্যার আসেন না। সম্প্রতি একদিন বিল ও বেতনের ফাইলে সই করার জন্য এসেছিলেন বলে জানান তিনি।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাফিউল আলম বলেন, ‘আমি কয়েকবার বললেও বোরহান উদ্দিন কর্মস্থলে আসেননি। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’ হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন উর রশীদ বলেন, ‘মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন যোগদানের পর থেকেই অনিয়মিত অফিস করেন। করোনা শুরুর পর তাকে দেখাই যায়নি। আমরা রেজল্যুশন করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেছি।’
এ বিষয়ে বোরহান উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। গতকাল কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
দিনাজপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বোরহান উদ্দিন সম্পূর্ণ অনুপস্থিত কথাটি সঠিক নয়। তিনি মাঝেমধ্যে এসে চলে যান। তার বিষয়ে কর্র্তৃপক্ষকে লিখিত দেওয়া হয়েছে। যে সিদ্ধান্ত আসে সেটি কার্যকর করা হবে।’
