জয়পুরহাটে এক গৃহবূধুকে ৩ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ থানায় দেওয়ার পরও মামলা নথিভূক্ত না করায় দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশিত হলে অবশেষে জয়পুরহাট থানায় মামলাটি নথিভূক্ত করেছে পুলিশ।
জয়পুহাটের সদর উপজেলার ধলাহার চাঁদপুর এলাকায় ২ সন্তানের এক গৃহবূধুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১০ জুন জয়পুরহাট থানায় ৪ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ প্রথমে মামলা নতিভূক্ত করেনি।
অসহায় দরিদ্র গৃহবধূর বিষয়টি দেশ রূপান্তরের নজরে আসার পর গত ১৩ জুন দেশ রূপান্তরের অনলাইন ও ১৪ জুন পত্রিকার শেষ পৃষ্ঠায় ‘গৃহবধূকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ করা হলেও নথিভুক্ত করেনি পুলিশ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর পুনরায় তদন্ত করে গত ১৬ জুন রাতে ৪ জনকে আসামী করে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। মামলা নং- ২২।
আসামীরা হলেন, সদর উপজেলার ধলাহার তাতীপাড়া এলাকার মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে বেলাল কসায় (৫৫), ধলাহার জামতলী শেখপাড়া এলাকার মৃত শমসেরের ছেলে মো. এসকেন আলী (৪২), একই উপজেলার চিরলা গ্রামের মৃত সালামত সলেমানের ছেলে বাবুল হোসেন (৩৫), চকবরকত চাঁদপুর এলাকার মোকলেছুর রহমানের ছেলে মিস্টার আলী (৪০)।
প্রথমে গৃহবধূর ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধি জানতে চাইলে সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিলেন ওসি। পরে দেশ রূপান্তরের সংবাদ হওয়ার পর অধিকতর তদন্ত করে মামলা গ্রহণ করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, নওগাঁর ধামইরহাট সাহাপুর কলোনি এলাকার দরিদ্র দুই সন্তানের এক গৃহবূধুকে (৩২) গত ৪ জুন তার পারিবারিক কলহে তার স্বামী মারধর করে। পরে গৃহবূধু তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পূর্বের পরিচিত বেলাল কসাই গৃহবূধুকে কথিত কবিরাজের ঔষধ খাওয়ালে তার স্বামী আর তাকে মারধর করবে না এমন প্রতিশ্রুতি দিলে পরেরদিন গত ৫ জুন সকালে সরল বিশ্বাসে বেলালের সাথে ভ্যানযোগে কবিরাজের বাড়িতে যাওয়ার পথে খাবারের সাথে অচেতন করার ঔষধ মিশিয়ে তাকে সদর উপজেলার চকবরকত এলাকার চাঁদপুর গ্রামে এক বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। পরের দিন গৃহবূধুর জ্ঞান ফিরে ঐ বাড়িতে অভিযুক্ত চারজনকে দেখেন।
পরে তিনদিন আটকে রেখে ওই গৃহবধূকে বেলাল ধর্ষণ করে। পরে ৮ জুন বিকেলে কৌশলে ঐ বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় এবং থানায় এসে অভিযোগ করলে প্রভাবশালীদের চাপে মামলা নথিভুক্ত না করলেও ১৬ জুন ওই ৪ জনকে আসামী করে মামলা নথিভুক্ত করে।
এ ব্যাপারে ওই গৃহবধূ বলেন, অবশেষে মামলা নথিভুক্ত করলেও পুলিশ এখোনো কাউকে গ্রেফতার করেনি। তাদের গ্রেফতার করে বিচার দাবি চেয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে জয়পুরহাট পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
