করোনা: স্যামন মাছ থেকে বেইজিংয়ে নতুন সংক্রমণ নিয়ে আতংক

আপডেট : ১৯ জুন ২০২০, ১২:২১ পিএম

টানা প্রায় দুই মাস চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে স্থানীয়ভাবে করোনা সংক্রমণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ফলে মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গিয়েছিল।

সব কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে গিয়েছিল, মানুষও যার যার কাজে যোগদান করে। শহরের গণপরিবহণ ও পার্কগুলো আবার লোকারণ্য হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু এক সপ্তাহ আগে নতুন করে সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় বেইজিংয়ে আবারও 'যুদ্ধাবস্থা' পরিস্থিতি তৈরি হয়। ২৭টি এলাকার মানুষকে বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বেইজিং থেকে ১২০০ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ৯ জুলাই পর্যন্ত ট্রেন সার্ভিস অনেক কমিয়ে দেয়া হয়েছে।

শহরটির প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে সুইমিং পুল, জিম এবং অনেক রকম খেলাধুলাও।

শুক্রবার পর্যন্ত ১৮০ জনের বেশি মানুষ নতুন আক্রান্ত হয়েছে বেইজিংয়ে। সংক্রমণ রোধে মাত্র পাঁচ দিনে সাড়ে লাখেরও বেশি মানুষকে টেস্ট করা হয়েছে। 

এদিকে চীনা রাজধানীতে নতুন করে যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে, সেটির উৎস বলে সন্দেহ করা হচ্ছে নগরীর মাছ-মাংস আর শাক-সব্জির এক পাইকারী বাজারকে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, শিনফাডি মার্কেটে স্যামন মাছ কাটা হয়েছে যে চপিং বোর্ডে, সেখানে প্রথম এই ভাইরাস পাওয়া যায়। এর ফলে স্যামন মাছ নিয়ে চীনে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

সুপারমার্কেটগুলো তাদের তাক থেকে স্যামন মাছ সরিয়ে ফেলেছে। রেস্টুরেন্টে স্যামনের বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি ইউরোপ থেকে স্যামন মাছের আমদানিও বন্ধ হয়ে গেছে।

তবে চীনের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) বলছে, স্যামন মাছে এ্ই ভাইরাস ছিল, এমন সম্ভাবনা তারা দেখছে না।

সাংহাইয়ে এক বৈঠকে সিডিসি পরিচালক গাও ফু বলেন,  বেইজিংয়ের এই প্রাদুর্ভাব সম্ভবত মে মাসের শেষের দিকে বা জুনের শুরুতে শুরু হয়নি, তবে সম্ভবত এক মাস আগে হয়েছিল।

তিনি বলেন, বাজারটিতে অবশ্যই অনেকগুলো উপসর্গহীন বা কম উপসর্গের কেস ধরা পড়েছে। যার ফলে পরিবেশে ভাইরাসটি এত বেশি সংক্রমিত হয়ে গেছে।

এদিকে গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে বেইজিং এ নতুন করে যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে, সেটির লক্ষণ আলাদা দেখতে পাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। 

স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, তারা যেসব নতুন রোগীর চিকিৎসা করছেন তাদের মধ্যে অনেক অদ্ভূত লক্ষণ দেখতে পাচ্ছেন। যেমন শরীরের জয়েন্টে ব্যাথা এবং পেটে অস্বস্তি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত