পটুয়াখালীতে অর্ধলক্ষাধিক জেলে খাদ্য সহায়তা পাননি

আপডেট : ২৩ জুন ২০২০, ০৭:১৯ এএম

সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে না গেলেও পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার অর্ধলক্ষাধিক জেলের ভাগ্যে এখনো জোটেনি প্রণোদনার বিশেষ খাদ্য সহায়তা। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন গভীর সমুদ্রগামী জেলেরা।

তবে মাছ শিকারে গোপনে সমুদ্রগামী হচ্ছেন অনেক জেলে। বন্দি হচ্ছেন আইনের বেড়াজালে। এ অবস্থায় নিষেধাজ্ঞাকালে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ খাদ্য সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং সময়মতো প্রদানের দাবি জেলেসহ ফিশিং ট্রলার মালিকদের। 

সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও বাধাহীন প্রজননের জন্য ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিনের জন্য সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রাখার নিষেধাজ্ঞা অরোপ করেছে মৎস্য বিভাগ। এ সময় পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৬৪ হাজার জেলের জন্য বিশেষ খাদ্য সহায়তার ৫৬ কেজি করে চাল প্রদানের আশ্বাস দেয় মৎস্য বিভাগ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার অর্ধেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ জেলে এখনো পাননি এ খাদ্য সহায়তা।

ফলে কর্মহীনতায় পরিবার-পরিজন নিয়ে কাটাচ্ছেন মানবেতর জীবন। এমন দুর্দশার সুযোগ নিয়ে কিছু সুবিধাবাদী ব্যবসায়ী জেলেদের উৎসাহিত করছেন সাগরে মাছ শিকার করতে। ফলে পরিবারের খাদ্যের জোগান দিতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গোপনে মৎস্য শিকারে সমুদ্রে যাচ্ছেন অনেক জেলে। এতে আইনের বেড়াজালে বন্দি হচ্ছেন অনেক জেলে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে গুনতে হচ্ছে জরিমানা। আবার অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ঘটছে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। এতে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে সরকারের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও বাধাহীন প্রজননের উদ্যোগ।

আলীপুর-কুয়াকাটা ফিশিং ট্রলার মাঝি সমিতির সভাপতি নুরু মাঝি বলেন, মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজ জানা নেই জেলেদের। অধিকাংশ জেলে পরিবার দু-এক বেলা কিংবা আধা পেট খেয়ে দিন পার করেন।  

আলীপুর-কুয়াকাটা মৎস্য ব্যবসায়ী ও ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, এ সময় প্রদেয় প্রণোদনা বাড়ানো উচিত। অবরোধ শুরু হওয়ার কয়েক দিন পরেই তা প্রদান করা হলে জেলেদের খুব উপকারে আসে।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানান, জেলায় নিবন্ধিত জেলের খাদ্য সহায়তা প্রদান শুরু হয়েছে। দ্রুততম সময়ে সবার কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত