কেরানীগঞ্জ

সংসার চলেনা কিন্ডারগার্টেন ও নন-এমপিও শিক্ষকদের

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ০৭:৫৮ এএম

করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশের ন্যায় ঢাকার কেরানীগঞ্জেও গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কয়েক দফা ছুটি বাড়িয়ে সর্বশেষ আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। করোনা পরিস্থিতি উন্নত না হলে ধারণা করা হচ্ছে আরও বাড়বে এই ছুটি। এতে করে বিপাকে পড়েছেন স্কুলের শিক্ষকেরা। বিশেষ করে নন-এমপিও ও কিন্ডারগার্টেন। এমনিতেই তাদের বেতন সামান্য। শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়ে তাদের সংসার চলতো। কিন্তু সব কিছু বন্ধ থাকায় ভীষণ দুর্দশার মধ্যে আছেন তারা। জানা যায়, কেরানীগঞ্জে ৪০টি হাইস্কুলে নন-এমপিও শিক্ষক আছেন প্রায় ১ হাজার এবং চার শতাধিক কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষক আছেন ২ হাজারের বেশি। নাম মাত্রই বেতন পেয়ে থাকেন এ সব শিক্ষকেরা। স্কুলের ছাত্রদের বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়িয়ে যা আয় হয় তাই একমাত্র তাদের ভরসা। তবে করোনার কারণে প্রাইভেট পড়ানোও বন্ধ রয়েছে সেই মার্চ থেকে। উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাদের। তারা একদিকে না খেয়ে দিন যাপন করছেন, অন্যদিকে সম্মানের ভয়ে অন্যের কাছে হাত পাততেও পারছেন না।

রোহিতপুর ইউনিয়নের ইস্পাহানি উচ্চ বিদ্যালয়ের নন-এমপিও সহকারী শিক্ষক সোলেয়মান আহমেদ বলেন, আমরা (শিক্ষকেরা) কারও কাছে চাইতে পারি না। আমাদের পেশাটাই এমন, না খেয়ে থাকলেও মুখ খুলতে পারি না কারও কাছে। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে কেরানীগঞ্জভিত্তিক একটি গ্রুপ ‘কেরানীগঞ্জ’ এ কেরানীগঞ্জের অনেক নন এমপিও শিক্ষক করোনাকালীন তাদের মানবেতর জীবনযাপনের কথা তুলে ধরেন। তাদের এ সমস্যার সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেন।

আগানগরের এইচ এম আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষিকা মৌসুমী আক্তার বলেন, মার্চ থেকে কিন্ডারগার্টেন বন্ধ থাকায় বেতন পাচ্ছি না। ৭টা প্রাইভেট পড়াতাম। অভিভাবকরা বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়াতে যেতে না করেছেন। আমার উপার্জন দিয়েই আমাদের সংসার চলত। উপার্জন বন্ধ থাকায় এখন না খেয়েও দিন কাটাতে হয়।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদা সুলতানা বলেন, কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো নিবন্ধিত নয়। তাই তাদের ব্যাপারে আমরা সিদ্ধান্ত দিতে পারি না।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিলুফার জাহান বলেন, আশা করি দ্রুতই তাদের জন্য একটা ব্যবস্থা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত