নব্বই দশকের সাড়া জাগানো ‘পাগল মন’ গানটি বিনা অনুমতিতে ‘পাসওয়ার্ড’ শিরোনামের সিনেমায় ব্যবহার এবং বাণিজ্যিকভাবে বিপণনের অভিযোগ এনে চিত্রনায়ক ও প্রযোজক শাকিব খানের বিরুদ্ধে এবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী দিলরুবা খান।
গতকাল সোমবার বিকেলে গুলশান থানায় জিডি করেছেন তিনি। মঙ্গলবার শিল্পী বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশী করি।’
গানের গীতিকার কায়সার আহমেদ, সুরকার আশরাফ উদাসসহ তিনজনের পক্ষে তিনি এ জিডি করেছেন। জিডিতে টেলিকম অপারেটর প্রতিষ্ঠান রবির বিরুদ্ধেও গানটি বিনা অনুমতিতে বিজ্ঞাপনচিত্রে ব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন দিলরুবা।
এর আগে তাদের পক্ষে গত ৭ মার্চ ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে শাকিব খান ও রবির কাছে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন ব্যারিস্টার ওলোরা আফরিন। বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় গত রবিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনে অভিযোগ করেন তিনি।
জিডিতে দিলরুবা খান উল্লেখ করেছেন, “কপিরাইট আইন-২০০০ এর ধারা-১৫(১)(ক) অনুযায়ী গানটি একটি সঙ্গিতকর্ম (মিউজিক্যাল ওয়ার্ক) এবং কপিরাইটের আওতাভুক্ত। আমার গাওয়া এই পাগল মন শীর্ষক গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক ক্যাসেট বিক্রি হয়। তারপর আইনগতভাবে আমি গানটির কপিরাইট সনদ সংগ্রহ করি বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস হতে, যার রেজি নং-১৬৩৪৪-সিওপিআর, তারিখ-১১/১০/২০১৮ইং।”
গানটি সিনেমায় ব্যবহারের বিষয়ে শাকিব খান কিংবা তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কোনো অনুমতি নেননি দাবি করে দিলরুবা খান জিডিতে বলেছেন, “কপিরাইট আইন-২০০০ এর ধারা-৭১ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর ধারা-২৩ এর সুম্পষ্ট লঙ্ঘন। চলচ্চিত্র অভিনেতা শাকিব খান এবং তার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে ফিল্মসের কেউই আমাদের কাছ থেকে গানটি করার কোন অনুমতি নেননি এবং আমরা এই বিষয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে সকলেই তা অগ্রাহ্য করে। এছাড়াও গানটি ব্যবসায়িকভাবে ব্যবহারের অনুমতি না নিয়ে এসকে ফিল্মস তা বাণিজ্যিকীকরণ করেন এবং রবি (আজিয়াটা) টেলিকম লিমিটেড এর কাছে বিক্রয় করেন যা কপিরাইট আইন-২০০০ এর ধারা-৮২ এর লঙ্ঘন। তাছাড়া অনুচ্ছেদ-৫.১.১২ এর জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪ লঙ্ঘনপুর্বক ‘পাগল মন’ শীর্ষক গানটি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গুলোতে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য বিজ্ঞাপন বানিয়ে বাজারজাত করেছেন যা সম্পূর্ণভাবে আইনের পরিপন্থী।”
দিলরুবা খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, “এই বিষয়ে পূর্বে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়েছি। কোন সুরাহা না হওয়ার কারণে গীতিকার ও সুরকারের পক্ষে আমি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। আমি ন্যায় বিচার প্রার্থনা করি।”
জিডির বিষয়ে কথা বলতে শাকিব খানকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
