বন্যা-বৃষ্টির পানিতে আশার আলো দেখছেন পাহাড়ের আমন চাষিরা

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২০, ১২:১১ পিএম

বন্যার পানিতে ফসলি জমি ও বসতভিটা তলিয়ে নিম্নাঞ্চলের মানুষ দিশেহারা। বছরের বাড়তি ফসলটুকু ঘরে তোলা তাদের জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে উজানের ঢল এবং বন্যার পানির কারণে। এর মধ্যেও কেউ আবার আশার আলো দেখছেন। তেমনি আশার আলো জাগিয়েছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পাহাড়ি অঞ্চলের মানষের মধ্যে।

মির্জাপুর উপজেলার নিচু এলাকায় বন্যার পানির কারণে কৃষকদের আবাদকৃত আমন ধান নষ্ট হয়ে গেছে। অপরদিকে উঁচু পাহাড়ি এলাকায় কৃষকেরা সেই সময় ধানের আবাদ করছেন।

এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মির্জাপুর উপজেলায় রয়েছে একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন। উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়ন, আজগানা ও তরফপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এবং লতিফপুর ইউনিয়নের আংশিক এলাকা অপেক্ষাকৃত উঁচু বলে পাহাড়ি অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি।

এ বছর সেখানে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে উফশী জাতের আমন ধানের আবাদ হবে, যা পুরো উপজেলার লক্ষমাত্রার দুই-তৃতীয়াংশ বলে স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

বর্ষার এবং বৃষ্টির পানি পাহাড়ি এলাকার ওইসব জমিতে না এলে সেচ দিয়ে পানির ব্যবস্থা করতে হয়। কিন্তু এ বছর টানা বৃষ্টি এবং বন্যার পানি যে পরিমাণ ওইসব জমিতে প্রবেশ করেছে তাতে আমন চাষের জন্য খুবই উপযোগী হয়েছে। এসব ধান বৃষ্টির পানিতেই হয়ে থাকে।

এই প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে অল্প সময়ে আবাদকৃত এই ধান কৃষকেরা ঘরে তুলতে পারেন। এতে তাদের নিজেদের এবং স্থানীয় চাহিদা পূরণে অনেক সহায়ক হয় বলে স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে।

বাঁশতৈল গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকার কৃষক মো. হালিম মিয়া জানান, তিনি প্রায় ৬০ শতক জমিতে আমন ধানের আবাদ করছেন। এরই মধ্যে ১০ শতক জমিতে ধান বুনার কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট জমিতে চারা লাগানোর জন্য খেত পরিচর্যা করছেন।

একই এলাকার কৃষক আমির মিয়া বলেন, ‘আমাগো পাহাড় এলাকায় ম্যালা জাগায় খালি বৃষ্টির পানিতেই এই ধান অয়। খালি চারা বুনতে যে কষ্ট আর ট্যাকাডা লাগে। আর তিন মাসের মধ্যে ধান কাটন লাগে।’

শ্রমিক গৌতম সরকার জানান, ১০ কেজি ধান দিয়ে বীজতলা তৈরি করলে প্রাপ্ত চারা দিয়ে প্রায় ৫৬ শতক জায়গায় ধানের আবাদ করা যায়। এই ধান পাহাড়ি এলাকার বাড়তি আয়ের উৎস। ৮০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে ধান কেটে ঘরে তোলা যায়। এই এলাকায় ধানগুলোর উৎপাদন খুবই ভালো হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ‘বন্যার কারণে মির্জাপুরের নিম্নাঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির আমন ধান নষ্ট হয়ে গেছে। পাহাড়ি এলাকায় বন্যার পানি না উঠার সুযোগে কৃষকেরা উফশী জাতের আমন ধানের আবাদ করছেন। এতে সেচের প্রয়োজন হয় না। বৃষ্টির পানিতেই ধানের উৎপাদন হয়। এতে স্থানীয় চাহিদা মিটে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত