পারমাণবিক অস্ত্র কার্যক্রম পরিত্যাগ না করার ইঙ্গিত দিয়ে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন জানিয়েছেন, এসব অস্ত্রই তার দেশকে থেকে নিরাপদ করেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে কারও সঙ্গে আর যুদ্ধে জড়ানোর দরকার নেই।
কোরীয় যুদ্ধের ৬৭ তম বার্ষিকী উপলক্ষে সৈন্যদের সাবেক সেনাবাহিনীদের এক সমাবেশে দেওয়া কিম এমন মন্তব্য করেন বলে উত্তর কোরিয়ার সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ।
দুই কোরিয়ার মধ্যে ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ পর্যন্ত তিন বছরের যুদ্ধে ৩০ লাখ কোরীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। শান্তি চুক্তির মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুই কোরিয়ার দ্বন্দ্ব। যদিও প্রতিবেশী দেশ দুটি এখনো এক ধরনের মৌন যুদ্ধে লিপ্ত।
সম্মেলনে কিম জানালেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করায় নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এমন অবস্থায় পৌঁছেছে তাদেরকে দেশের নিরাপত্তার জন্য আর যুদ্ধে জড়ানোর দরকার প্রয়োজন নেই।
“আমাদের নির্ভরযোগ্য ও কার্যকরী পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে এই ভূমিতে আর কখনো যুদ্ধ নামক শব্দ উচ্চারণ করার দরকার হবে না। এই অস্ত্রই আমাদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সারা চির দিনের জন্য কঠোরভাবে নিশ্চিত করবে।”
পিয়ংইয়ং মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের দরকার আছে। উত্তর কোরিয়া এই অস্ত্রের অধিকারী হওয়ায় এই অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে হুমকিতে আছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান।
উত্তর কোরিয়া বছরের পর বছর চেষ্টায় পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে সক্ষম হলেও বিশ্ব থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল ও যুক্তরাষ্ট্রের নানা অবরোধে অর্থনৈতিক চাপে আছে দেশটি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক কার্যক্রম থেকে সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দফায় কিমের সঙ্গে বৈঠকে বসলেও কোনো লাভ হয়নি।
