সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের সব ফসলি জমি ও নিচু সড়ক বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এ ছাড়া বন্যায় ডুবে যাওয়া কৈজুরি, জালালপুর, খুকনি, সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের ৩ শতাধিক মানুষ তাদের গরু, ছাগল, ভেড়া নিয়ে এনায়েতপুর-ভেড়াকোলা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়ে গরু-মানুষ এক সাথে এক ঝুপড়িতে বাস করছে। তাদের অধিকাংশের ঘরে খাবার নেই।
মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে তারা বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়ে খোলা আকাশের নিচে পলিথিন টানিয়ে বাস করছে ও মানবেতর জীবন যাপন করছে। বাঁধে আশ্রয় নেওয়ায় এ সব মানুষের টয়লেট সমস্যায় তারা যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করছে। বিশুদ্ধ খাপার পানি না থাকায় তারা নদীর পানি পান করছে। করোনা ঝুকির মধ্যেও তারা মানুষ গরু এক সাথে গাদাগাদি করে ঘুমাচ্ছে। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে উপজেলার অন্তত ১৮০টি গ্রাম। এ ছাড়া ৩৭ হাজার বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
এর মধ্যে গালা ইউনিয়নের,হাতকোড়া,বৃ- হাতকোড়া, মোহনপুর, রতনদিয়া, গোপালপুর, ধলাই গ্রামের সবগুলো বাড়িঘর ও বিনটিয়া, তারটিয়া, কাশিপুর গ্রামের অধিকাংশ, সোনাতনী ইউনিয়নের বাঙ্গালা, আগবাঙ্গালা গ্রামের সব গুলো বাড়িঘর বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। বন্যা দূর্গত ও পানিবন্দি এ সব গ্রামের শত শত মানুষ ত্রাণের আশায় পথ চেয়ে বসে আছে। তারা অপরিচিত লোক দেখলেই তাকে ঘিরে ধরে ত্রাণের দাবী করছে।
এ বিষয়ে খুকনি ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য মোছা: লতা খাতুন জানান,বাড়িঘরে বন্যার পানি উঠেছে। অনেকেই যাওয়ার জায়গা না থাকায় সড়ক ও বাঁধের ধারে আশ্রয় নিয়েছে।
তিনি আরো বলেন,আমার বাড়িঘরেও ৩ ফুট পানিতে ডুবে গেছে। বাবার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলাম। সেখানেও ডুবে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে স্বামী-সন্তান নিয়ে এনায়েতপুর সড়কে আশ্রয় নিয়েছি। পলিথিন টানিয়ে রয়েছি। বৃষ্টি এলে ভিজে যায়। আমার এলাকার প্রায় ৩ শতাধিক মানুষের বাড়িঘর বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। অথচ এখনও তাদের ভাগ্যে জোটেনি একটু ত্রাণ সামগ্রী। ফলে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে।
এ বিষয়ে খুকনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁদ ও গালা ইউনিয়নের আব্দুল বাতেন বলেন, বন্যার জন্য এখনও কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তবে ঈদ উপলক্ষে যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে তা ষুষ্ঠভাবে বিতরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলার পিআইও আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ পর্যন্ত উপজেলার বন্যাদুর্গতদের ৫০০ মেট্রিকচন চাল ও নগদ ২ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ১৩টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বারদের মাধ্যমে তা সুষ্ঠভাবে বিতরণ করা হয়েছে।
