ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের মূল সংগঠন উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ-আরআসএসের দাবি পূরণ করতেই নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন-এসএফআই।
শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় এক প্রতিবাদ সভা থেকে এই ছাত্র সংগঠনের নেতারা বলেন, এই শিক্ষানীতি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সংস্কৃত ও দেশের অন্য প্রাচীন ভাষা চাপিয়ে দিচ্ছে।
কয়েকদিন আগে আমূল সংস্কার এনে নতুন শিক্ষানীতির খসড়া গ্রহণ করে বিজেপি সরকার। এতে সব পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সংস্কৃত ভাষা অধ্যয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ১৯৮৬ সালে গৃহীত শিক্ষানীতির পরিবর্তে নতুন শিক্ষানীতি গ্রহণ করেছে। গত ২৯ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই খসড়া গ্রহণ করেছে।
অবিলম্বে এই শিক্ষানীতি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে এসএফআইয়ের অভিযোগ, নতুন শিক্ষানীতি গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে জগাখিচুড়ি বানিয়েছে। বিভ্রান্ত করেছে শিক্ষার্থীদের।
সংগঠনের রাজ্য কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘নতুন শিক্ষা নীতি বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার কোমর ভাঙবে। মুক্ত শিক্ষার অঙ্গন খুলে দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে বেসরকারিকরণের দিকে ঠেলে দেবে। ফলে নিম্নবিত্ত পড়ুয়াদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে শিক্ষা।’
সংগঠনের রাজ্য সভাপতি সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই শিক্ষানীতি ঘুরিয়ে আপনার ওপর সংস্কৃত ও দেশের অন্য প্রাচীন ভাষা চাপিয়ে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই ভাষাগুলো শেখার পরিসর আছে। তারপরে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে এই ভাষা চাপিয়ে দেওয়া কেন?’
তিনি বলেন, ‘এই ভাষাগুলো নিয়ে কেউ গবেষণা করলে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু স্কুল ও কলেজগুলোতে আরএসএসের দাবি মেটাতে ঘুরিয়ে এই ভাষাশিক্ষা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
