মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক চা শ্রমিক দম্পতির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং স্বামীর লাশ দড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী নিজেই আত্মহত্যা করেছেন।
শনিবার মধ্যরাতে শ্রীমঙ্গল বৌলাছড়া চা বাগানের শ্রমিক কলোনিতে এ ঘটনা ঘটেছে। মৃতরা হলেন স্ত্রী অলকা তন্তবায় (৩৫) ও স্বামী বিপুল তন্তবায় (৪২)।
মৃত অলকা তন্তবায় বৌলাছড়া চা বাগানের নিবন্ধিত শ্রমিক। স্বামী বিপুল তন্তবায় বাগানে কাজ ছিল না। মৃত দম্পতির শুভা তন্তবায় (১৪), দেবা তন্তবায় (৯) ও দেবী তন্তবায় (৪) নামে তিনটি সন্তান রয়েছে।
বড় মেয়ে শুভা তন্তবায় বলেন, রাতে তাদের ঘরে বাবা মা ও তার ৪ বছরের ছোট ভাই ঘুমাতে যায়। তিনি পাশের কক্ষে ঘুমান। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে তিনি তার বাবা মায়ের মৃতদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন।
তিনি জানান, বাবা-মায়ের মধ্যে ভালো সম্পর্কই ছিল। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর এখন তিনি এবং তার বাকি ছোট দুই ভাইবোন এতিম হয়ে গেছে।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুছ ছালেক বলেন, গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যায় খুন হওয়া স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। এই ঘটনার সূত্র ধরেই রাতে স্বামী তার স্ত্রীকে খুন করে এবং পরে নিজেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত একটি দা উদ্ধার করেছি। আমরা ধারণা করছি এই দা দিয়েই হত্যা করা হয়েছে। দুইজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
