রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই ২ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২০, ১১:২০ পিএম

পেটের ব্যথা নিয়ে হসপিটালে ভর্তি হন রোগী। চিকিৎসক অ্যাপেন্ডিসাইটিসের সমস্যা মনে করেন। কোনোরকম পরীক্ষা ছাড়াই অপারেশন করেন। পরে তুলা ব্যান্ডেজ রেখেই পেট সেলাই করেছেন চিকিৎসক।

দীর্ঘ দুই মাস অসহনীয় ব্যথা সহ্য করেন রোগী। পরে সিটি স্ক্যান করা হয়। পেটের ভেতর ধরা পড়ে তুলা ও ব্যান্ডেজ।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুনরায় অপারেশন করা হয়। এমন ঘটনায় রোগীর স্বজনরা রোববার কুমিল্লা আদালতে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। কুমিল্লা বরুড়া উপজেলার ফেয়ার হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। মামলায় ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন ও ডা. মো. রাশেদ-উজ-জামান রাজিবকে আসামি করা হয়। বাদী রোগীর ভাই তানজিদ সাফি অন্তর। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তর জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী জানা যায়, গত ১২ এপি«ল রাতে বরুড়ার রাজাপুর গ্রামের কাশেম শফি উল্লার মেয়ে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীর পেটে প্রচন্ড ব্যথা হয়। ওই দিন রাতে স্বজনরা তাকে বরুড়া ফেয়ার হসপিটালে ভর্তি করান। পরে ১৩ এপ্রিলে ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনের তত্ত্বাবধানে ডা. মো. রাশেদ-উজ-জামান রাজিব অপারেশন করেন। এ সময় পেটে গজ রেখে সেলাই সম্পন্ন করেন ডা. রাজিব। পরে রোগীর পেটে ব্যথা অনুভব হয়। ব্যথা কমাতে ডা. ইকবাল হাই পাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেন। এভাবে ৩ মাস চলার পরে রোগীর ব্যথা কমেনি। পরে রোগীর ভাই তানজিদ সাফি অন্তর তার বোনকে আলট্রাসনোগ্রাফি করান। পেটে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করেন। ১৮ জুলাই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডা. আজিজ উল্লাহ ও ডা. মাহমুদ রোগীকে পুনরায় অপারেশন করান। এ সময় রোগীর পেট থেকে গজ বের করা হয়।

তানজীদ রফি অন্তর জানান, ডা. ইকবাল ও রাজিব আমার বোনের সঠিক রোগ নির্ণয় ছাড়া অপারেশন করে। পরে পেটে গজ রেখেই সেলাই করে। আবার ব্যথা হলে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন অ্যান্টিবায়োটিক প্রেস্ক্রাইব করেন। ৩ মাস এমন উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ওষুধে আমার বোনের অবস্থা আরও খারাপ হয়। সঠিক বিচারের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, অপারেশনের দিন তিনি ছিলেন না। রোগী যেদিন হসপিটাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি গেছে সেদিনও তিনি হসপিটালে ছিলেন না। তবে তিনি রোগীকে ওষুধ দিয়েছেন। কীভাবে রোগীর অবস্থা না বুঝে ওষুধ দিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. ইকবাল জানান, অপারেশন করিয়েছেন ডা. রাজিব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত