বেদখলে থাকা বন বিভাগের ১ লাখ একরেরও বেশি বনভূমির বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। এ ছাড়া বেদখলে থাকা বনভূমির সর্বশেষ অবস্থা, উচ্ছেদপ্রক্রিয়া, মামলা পরিচালনায় নিয়োগকৃত আইনজীবীদের ভূমিকা, দখলদার উচ্ছেদে কতবার নোটিস দেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কেও তথ্য চেয়েছে কমিটি।
গতকাল সোমবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘কাগজপত্রে কোনো ধরনের সমস্যা নেই, বন বিভাগের এমন ১ লাখ একরের বেশি জমি বেদখলে রয়েছে। এই ১ লাখ একর পুরোপুরি কাগজে-কলমে বনের জমি। এর বাইরেও প্রচুর বনভূমি দখলে রয়েছে। আমরা এই নিষ্কণ্টক জমির বিষয়টি আগে দেখতে চাই। এ জন্য মন্ত্রণালয়কে এ সম্পর্কে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আমরা দেখতে চাই, দখলদারদের উচ্ছেদে কতবার নোটিস দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে। এ কাজে জড়িত আইনজীবীদের কাজেরও মূল্যায়ন করতে চাই।’
সাবের হোসেন বলেন, ‘অনেক জমি সিএস খতিয়ানে বন বিভাগের মালিকানায় ছিল। পরে এসএ খতিয়ানে সেটা আবার জেলা প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়। ডিসি অফিস সেগুলো আবার বিভিন্নভাবে লিজ দিয়েছে। এগুলো ফেরত আনতে হবে। সে জন্য আইনি প্রক্রিয়া বের করতে বলা হয়েছে।’
বন বিভাগের তথ্যমতে, স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত দেশে বেদখল হওয়া মোট বনভূমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার একর। তবে বেসকারি হিসাবে এর পরিমাণ আরও বেশি।
গাছের চারা রক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানকে চায় কমিটি : সভায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১ কোটি বৃক্ষের চারা রোপণের যে কর্মসূচি রয়েছে তা জেলা ও বিভাগওয়ারী বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে বৃক্ষ রোপণে যাতে কোনো আইনি জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া গাছের চারা পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানকে সম্পৃক্ত করা যায় কি না, তার সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য কমিটি সুপারিশ করে।
সুন্দরবনসহ অন্যান্য জেলায় বনদস্যুর আক্রমণে আহত ও নিহত কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণ ও ঝুঁকিভাতা বৃদ্ধি, দ্রুত ভাতা প্রদান, আসামিদের তালিকা, মামলার তদারকি, সাজার মেয়াদ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সুপারিশ করা হয়।
পরিবেশ গবেষণা মেলার সুপারিশ : বৈঠকে পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিপর্যায়ের গবেষণাকে সরকারের কাজে সম্পৃক্ত করতে প্রতি বছর ‘পরিবেশ গবেষণা মেলা’ আয়োজনের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে এই মেলার আয়োজন করা যায় কি না, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
