আলোকচিত্রী সাইদা খানমের মৃত্যুতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর শোক

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২০, ১১:৩২ এএম

বাংলাদেশের প্রথম পেশাদার নারী আলোকচিত্রী সাইদা খানমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে একুশে পদকপ্রাপ্ত এই আলোকচিত্রী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থায় ভুগছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

শোকবার্তায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, “৫০ এর দশকে বেগম পত্রিকায় আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ শুরু করেন সাইদা খানম। কাজ করেছেন সত্যজিৎ রায়ের মতো বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালকের সঙ্গেও। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে ঢাকার আজিমপুর এলাকায় অস্ত্র হাতে প্রশিক্ষণরত নারীদের ছবি তোলেন। অদম্য সাহসী আলোকচিত্রী সাইদা খানমের অনুপ্রেরণায় পরবর্তীতে এ সাহসী ও মর্যাদাপূর্ণ পেশায় অনেক নারীর পদচারণা ঘটেছে। বাংলাদেশে নারী জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ এ মহীয়সী নারী তার কর্মের মধ্য দিয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।”

সাইদা খানম ১৯৩৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্য ও লাইব্রেরি সায়েন্সে মাস্টার্স করেন।

বেগম ছাড়াও তার ছবি ছাপা হয় অবজারভার, ইত্তেফাক, সংবাদসহ বিভিন্ন পত্রিকায়। আলোকচিত্রী হিসেবে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নেন তিনি। সত্যজিৎ রায়ের একাধিক ছবিতে আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করেন। চন্দ্র বিজয়ী প্রথম তিন নভোচারীর ছবিও তুলেছেন তিনি।

দেশের বাইরে ভারত, জাপান, ফ্রান্স, সুইডেন, পাকিস্তান, সাইপ্রাস ও যুক্তরাষ্ট্রে তার তোলা ছবির বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী হয়। জাপানে ইউনেসকো অ্যাওয়ার্ড, অনন্যা শীর্ষ দশ পুরস্কার, বেগম পত্রিকার ৫০ বছর পূর্তি পুরস্কার, বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সম্মানসূচক ফেলোসহ বিভিন্ন স্বীকৃতি পান তিনি।

ছবি তোলার পাশাপাশি লেখালেখি করতেন  সাইদা খানম। তার উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘ধূলোমাটি’, ‘স্মৃতির পথ বেয়ে’, ‘আমার চোখে সত্যজিৎ রায়’। তিনি বাংলা একাডেমি ও ইউএনএবির আজীবন সদস্য ছিলেন।

আলোকচিত্রে অবদানের জন্য ২০১৯ সালে একুশে পদক লাভ করেন সাইদা খানম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত