জানুয়ারির এক সকালে শামীম পাটোয়ারি বগিগাড়ি চালিয়ে ময়লা ফেলতে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ কানে ভেসে আসে নবজাতকের কান্না। ২৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি যুবক থমকে যান। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর ডাস্টবিনে খুঁজে পান ফুটফুটে এক বাচ্চা!
সিঙ্গাপুরের পূর্বাঞ্চল বেদকে আট মাস আগের ওই ঘটনায় বাচ্চাটির মাকে মঙ্গলবার ১৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এরপর দেশটির বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বাংলাদেশি প্রবাসী শামীম এবং তার সহকর্মী মোস্তফা কামালের (৪০) প্রশংসা করা হয়েছে।
দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য নিউ পেপার (টিএনপি) জানিয়েছে, অভিযুক্ত ২৭ বছর বয়সী নারী বাথরুমে সন্তান প্রসব করে ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দেন।
তার দাবি, পেটে ব্যথা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত গর্ভধারণের বিষয়ে বুঝতে পারেননি।
ওয়েট্রেস এবং ক্লিনার হিসেবে দুটি পার্টটাইম চাকরি করা ওই তরুণী তার ভাইয়ের সঙ্গে বাসায় থাকা অবস্থায় গত ৭ জানুয়ারি অসুস্থ হন। এরপর বাথরুমে গেলে তার সন্তান প্রসব হয়।
পরে রান্নাঘরে গিয়ে প্লাস্টিকের ব্যাগে করে নবজাতককে ফেলে দেন।
প্রায় ঘণ্টা দুই পর বেদকের মোস্তফা এবং শামীম বাচ্চাটিকে উদ্ধার করেন। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেন সুপারভাইজারকে। ডাকা হয় অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ।
ততক্ষণে শামীম নিজের টি-শার্ট খুলে আড়াই কেজি ওজনের বাচ্চাটির গায়ে জড়ান।
ডাস্টবিনের পাশের বাড়িতে পরদিন পুলিশ গেলে ওই নারী দাবি করেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে তার ডিএনএ টেস্টের চ্যালেঞ্জ করা হয়। এরপর বান্ধবীর পরামর্শে তিনি দোষ স্বীকার করে নেন।
রায়ে অখুশি শামীম: মঙ্গলবার শামীম টিএনপিকে জানিয়েছেন এই রায় শুনে তিনি অবাক হয়েছেন।
‘বাচ্চাটিকে পাওয়ার পর আমার মনে হয়েছিল যে ফেলেছে তার কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত,’ মন্তব্য করে এই বাংলাদেশি শ্রমিক বলেন, ‘বাচ্চাটিকে নিতে না চাইলে তার অনেক উপায় ছিল। সেটি না করে এভাবে মেরে ফেলতে চাওয়ার কোনো মানে নেই।’
বাচ্চাটি অন্য আরেক নারী দত্তক নিয়েছেন।
শামীমের বিশ্বাস বাচ্চাটি বড় হলে কোনো একদিন তার সঙ্গে দেখা হবে, ‘বাচ্চাটির জন্য আমি খুব খুশি। ও বড় হলে নিশ্চয়ই আমাদের একদিন দেখা হবে…।’
