ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে পুরস্কার দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরে মধ্যস্থতা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রয়টার্স জানায়, ওই চুক্তির পুরস্কার হিসেবে আমিরাতকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এ ব্যাপারে নাখোশ ইসরায়েল।
ট্রাম্পের তৎপরতায় ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় আমিরাতের কাছে যুদ্ধবিমান বিক্রিতে সম্মত হয় হোয়াইট হাউস।
বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প নিজেই এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তিনি বলেন, লকহিড মার্টিন করপোরেশনের তৈরি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহী আরব আমিরাত। বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপের পুরোপুরি বিরোধী ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, আমিরাতের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির যে কোনও উদ্যোগের বিরোধিতা করবে তার দেশ।
এই যুদ্ধবিমান আগ থেকে ব্যবহার করে আসছে ইসরায়েল। তবে ইহুদি রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে-এমন আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র তার অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম আরব দেশগুলোর কাছে বিক্রি করে না।
প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েলের স্বাধীনতা ঘোষণার পর ইসরায়েলের সঙ্গে তৃতীয় দেশ হিসেবে চুক্তি করল আরব আমিরাত। এর আগে ১৯৭৯ সালে মিসর এবং ১৯৯৪ সালে জর্ডান চুক্তি করেছিল। যদিও মুসলিম বিশ্ব এই চুক্তির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
এই চুক্তি অনুযায়ী আগামী কয়েক সপ্তাহে ইসরায়েল ও আমিরাতের প্রতিনিধিরা বিনিয়োগ, পর্যটন, সরাসরি বিমান চলাচল, নিরাপত্তা, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি, পরিবেশ এবং একে অপরের দেশে দূতাবাস স্থাপন নিয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই করবেন।
ইতিমধ্যে দুই দেশের মধ্যে করোনা গবেষণা শুরু হয়েছে। চালু হয়েছে পারস্পরিক টেলিযোগাযোগ।
