দেশের বিভিন্ন জায়গায় গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা এবং করোনা পরিস্থিতিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে।
সোমবার বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েসন (ইমজা) সিলেট আয়োজিত মানববন্ধনে সিলেটের গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা নির্যাতনের কোনো বিচার হচ্ছে না। দীর্ঘসূত্রতায় ঝুলে থাকছে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যার ঘটনা। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সময় টিভির কক্সবাজার প্রতিনিধি সুজা উদ্দিন রুবেল, আমার হবিগঞ্জের চিফ রিপোর্টার তারেক হাবিব এবং বিজয় টিভির সাভার প্রতিনিধি জুলহাস উদ্দিন সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের ওপর হামলারও কোনো বিচার হবে না বলে সহকর্মীরা আশঙ্কা করছেন।
বক্তারা বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করলে, গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে গণতন্ত্রের কোনো মূল্য থাকে না।
অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে না। যারা দেশের গণতন্ত্রকে অকার্যকর করতে চায়, তারাই এসব ঘটাচ্ছে।
বক্তারা বলেন, একদিকে নির্যাতন, অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতিতে বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে সাংবাদিক ছাঁটাই শুরু হয়েছে। করোনায় আয় নেই এমন অজুহাত দেখিয়ে অনেক গণমাধ্যম কর্মীর বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কর্মীদের পরিশ্রমের কারণে লাভ করে আসা প্রতিষ্ঠানগুলো সংকটকালে কর্মীদের তার কোনো প্রতিদান দিচ্ছে না। বক্তারা কর্মী ছাঁটাইয়ের অপতৎপরতা বন্ধ করতে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের প্রতি দাবি জানান।
ইমজার সভাপতি মাহবুবুর রহমান রিপনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সজল ছত্রীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির, ইমজার সাবেক সভাপতি আশরাফুল কবীর, সহসভাপতি আনিস রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম শাহ, সিলেট ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মামুন হাসান, টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মুন্সী প্রমুখ।
