সুপ্রিম কোর্টে হারলে শ্রীকৃষ্ণের আদালতে যাবেন বাদী

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৯:২১ এএম

বাবরি মসজিদ নিয়ে রায়ের দিনেই বুধবার শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি নিয়ে মামলা খারিজ করে দেয় ভারতের মথুরার একটি আদালত। এর ফলে নতুন করে বিবাদ উসকে দিতে সঙ্ঘ পরিবারের প্রয়াস অনেকটাই ধাক্কা খেয়েছে বলে উল্লেখ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

তবে আদালতে আরজি খারিজের পরে মামলাকারীদের আইনজীবী বিষ্ণু জৈন জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাবেন তারা। সেখানেও যদি হেরে যান, তা হলে ‘উপযুক্ত রায়ের জন্য শ্রীকৃষ্ণের আদালতে মামলা’ করবেন।

মথুরার আদালতে ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বিরাজমান’-এর নামে দায়ের হওয়া দেওয়ানি মামলার মূল বক্তব্য ছিল, ‘শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি’-র ১৩.৩৭ একরের অধিকার ও শাহি ঈদগাহ মসজিদ সরানো। শ্রীকৃষ্ণ বিরাজমানের হয়ে মামলা করেছিলেন রঞ্জনা অগ্নিহোত্রী ও ছয় জন ভক্ত।

মামলাকারীদের দাবি, মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব কেশব দেব মন্দিরের একাংশ ধ্বংস করেন। সেখানেই গড়ে ওঠে ঈদগাহ মসজিদ। ফলে বর্তমান অবস্থান থেকে ওই মসজিদ সরানোর আরজি জানিয়েছিলেন মামলাকারীরা।

কিন্তু মথুরা নগর আদালতের বিচারক বুধবার ওই মামলা গ্রহণ করতে রাজি হননি। আদালত জানিয়েছে, ভারতের বর্তমান আইন অনুযায়ী, ১৯৪৭ সাল থেকে থাকা দেশের যে কোনো প্রান্তে মন্দির-মসজিদ বা গির্জার চরিত্র বদলানোর ওপরে আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে ১৯৯১ সালের উপাসনাস্থল সংক্রান্ত বিশেষ আইন অযোধ্যার বিষয়টিকে ছাড় দিয়েছিল। কিন্তু সেই বিষয়টি শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হচ্ছে না।

রামমন্দিরের পাশাপাশি মথুরা ও কাশীর মন্দির নিয়েও আন্দোলনে নেমেছিল সঙ্ঘ পরিবার। রামমন্দির আন্দোলনের সময়ই গেরুয়া বাহিনীর আওয়াজ ছিল, ‘অযোধ্যা তো সির্ফ ঝাঁকি হ্যায়, কাশী-মথুরা আভি বাকি হ্যায়’। রামমন্দিরের শিলান্যাসের পরে সেই আওয়াজ আরও জোরালো হয়েছিল।

রামমন্দির আন্দোলনের অন্যতম নেতা বিনয় কাটিয়ার মথুরায় কৃষ্ণ জন্মভূমি মামলার আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, মথুরায় শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দিরের লাগোয়া ঈদগাহ মসজিদের জমি হিন্দুদের। তার দখল নিতে হবে। প্রয়োজনে আন্দোলনও হবে। কিন্তু মথুরা আদালতের রায়ে সঙ্ঘ পরিবারের প্রয়াস অনেকটাই ধাক্কা খেল। তবে বিষয়টি এখানেই যে শেষ হচ্ছে না, বিষ্ণু জৈনের কথায় তা স্পষ্ট।

বুধবার ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় প্রবীণ বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানিসহ ৩২ আসামির সবাইকে খালাস দেয় আদালত। স্থানীয় সময় দুপুরে লখনউয়ের বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক সুরেন্দ্রকুমার যাদব রায় এ রায় ঘোষণা করেন।

মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা ‘পূর্বপরিকল্পিত ছিল না’ বলেও রায়ে উল্লেখ করেন বিচারক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই’ উল্লেখ করে রায়ে আরও বলা হয়, ‘সমাজবিরোধীরাই গম্বুজে ওপরে উঠেছিল। অভিযুক্তরা তাদের থামানোর চেষ্টা করেছিলেন।’

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংস করেছিল উগ্রপন্থী হিন্দু করসেবকরা। প্রবীণ বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলিমনোহর জোশী, উমা ভারতীর মতো নেতানেত্রীদের বিরুদ্ধে মসজিদ ভাঙার ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা ও উসকানির অভিযোগ আনা হয়।

বাবরি ধ্বংস মামলায় মোট ৪৯ জন অভিযুক্তের মধ্যে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অশোক সিঙ্ঘল, শিবসেনার বাল ঠাকরে, অযোধ্যার পরমহংস রামচন্দ্র দাসের মতো ১৭ জন ইতিমধ্যে মারা গেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত