তুর্কি নাটকে কাশ্মীরিদের আত্মপরিচয়ের খোঁজ!

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৫২ এএম

এরতুগ্রুল নামে কেউই কোনোদিন কাশ্মীরের সোপোর, পুলওয়ামা বা বারামুলাতে ছিলেন না। অথচ গত দু-তিন বছরে সেখানে অসংখ্য নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে এরতুগ্রুল। শীতকালে তো কাশ্মীরে দেখা যাচ্ছে এরতুগ্রুল স্টাইলের টুপিও। হঠাৎ করে এরতুগ্রুল কীভাবে ভারতে এতটা জনপ্রিয়তা পেল তা নিয়ে বিস্মিত সমাজ বিশ্লেষকরাও। বিষয়টি নিয়ে বিশদ সমীক্ষা করেছেন হায়দ্রাবাদের মৌলানা আজাদ জাতীয় উর্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক শাহীদ মিও এবং ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ইকরামুল হক।

অধ্যাপক ইকরামুল হকের মতে, আজকের ভারতবর্ষে মুসলিমরা যে আত্মপরিচয়ের সংকট বা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগছেন, সেই শূন্যতার জায়গা থেকেই হয়তো তারা ভিনদেশি এই ঐতিহাসিক উপাখ্যানের সঙ্গে নিজেদের অনেকটা ‘রিলেট’ করতে পারছেন, আর সে কারণেই এরতুগ্রুল এদেশেও এতটা জনপ্রিয় হয়েছে।

অধ্যাপক শাহীদ মিও বলেন, কাশ্মীরে ইন্টারনেটের কী হাল সবাই জানেন। আমি যখন কাশ্মীরি ছাত্রদের আজকাল অনলাইনে ক্লাস নিই, ব্যান্ডউইথের সমস্যায় তারা আমাকে ঠিকমতো শুনতেই পান না। অথচ সেই একই ছাত্ররা আমাকে বলেন, এরতুগ্রুলের একটা এপিসোডও ছাড়া যাবে না। দুর্বল নেট নিয়েই, বাফারিং সহ্য করেই তারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন মোবাইল ফোনে এই তুর্কি নাটক দেখার জন্য!

বস্তুত ২০১৭ সালের অক্টোবরে নেটফ্লিক্স তুরস্কের এই ঐতিহাসিক ড্রামাটি অনলাইনে ‘স্ট্রিম’ করতে শুরু করার পরই ভারতে তা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তুমুল সাড়া ফেলে। কিন্তু ভারত ও তুরস্কের কূটনৈতিক সম্পর্ক যখন অত্যন্ত খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন তুরস্কেরই একটি টেলি-ড্রামা ভারতীয় মুসলিমদের মধ্যে এতটা সাড়া ফেলার আর কি কোনো রহস্য রয়েছে? গবেষণা রিপোর্টটির অন্যতম লেখক ড. ইকরামুল হক বিবিসিকে বলেন, একটা ফ্যাক্টর তো এটার টান টান গল্প, নাটকীয়তায় ভরা প্লট, দারুণ অভিনয় আর দুর্ধর্ষ স্পেশাল ইফেক্টস। এরতুগ্রুল একবার দেখতে বসলে সেটা ছেড়ে ওঠাই মুশকিল। ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণে ভারতীয় মুসলিমরাও হয়তো এই তুর্কি গল্পটা ভালোবেসে ফেলছেন, একাত্ম বোধ করছেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের প্রতি এর মাধ্যমে তাদের কোনো মুগ্ধতা তৈরি হচ্ছে। আসলে এটা শেষ পর্যন্ত ড্রামাই, কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা কূটনীতির সঙ্গে এর তেমন সম্পর্ক আছে বলে মনে করি না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত